বিএমটিভি নিউজ ডেস্কঃ বৃদ্ধা শাহিদা (৭০) থাকতেন দুই ছেলের সংসারে। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মা শাহিদাকে পিটিয়ে, শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বড় ছেলে হামিদুল ও তার স্ত্রী আকলিমার বিরুদ্ধে। নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার যোগীপাড়া গ্রামে। গত ১লা এপ্রিল তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, ঘরে মায়ের লাশ রেখে স্বাভাবিক চলাফেরা ও আচরণ করছিলেন বড় ছেলে হামিদুল ও তার স্ত্রী আকলিমা। তবে দীর্ঘক্ষণ বাড়িতে মাকে দেখতে না পেয়ে ছোট ছেলে বিরলের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে তিনি ঘরের ভেতরে ঢুকে মায়ের ঝুলন্ত লাশ শনাক্ত করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানান, যোগীপাড়া গ্রামের শাহিদা বেওয়া (৭০) স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে ছেলেদের সাথে থাকতেন। স্বামীর জমি বড় ছেলে হামিদুল ইসলাম ভোগদখল করে আসছেন। কিছুদিন ধরে হামিদুল ও তার স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্য হয় শাহিদার। তারা খাবার দেয়াও বন্ধ করে দেন। শাহিদা অন্য স্বজনদের সহযোগিতায় কোনো রকমে দিনযাপন করছিলেন।
সর্বশেষ গত বুধবার রাতে হামিদুল ও তার স্ত্রীর সঙ্গে শাহিদার ঝগড়া হয়। পরে পাশের ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন শাহিদা। গত বৃহস্পতিবার সকালে হামিদুল ও তার স্ত্রী আকলিমা ঘুম থেকে উঠে বাড়িতে স্বাভাবিক কাজ করছিলেন। দুপুর পর্যন্ত শাহিদাকে বাড়িতে দেখতে না পেয়ে ছোট ছেলে বিরল হোসেনের সন্দেহ হয়। মায়ের বিষয়ে হামিদুলকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি অসংলগ্ন কথা বলেন। পরে মায়ের ঘরের ভেতরে ঢুকে তার লাশ দেখতে পান বিরল। খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
বিরল হোসেন বলেন, তার মাকে পিটিয়ে, শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে লাশ ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়। নিহত শাহিদার মেয়ের স্বামী শামসুল আলম বলেন, তার শাশুড়ির গলা ও পেটের নিচে আঘাতের চিহ্ন আছে। হামিদুল ও তার স্ত্রী আকলিমা তাকে খুন করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। ঘটনা প্রকাশের পর থেকে তারা স্বামী-স্ত্রী পলাতক রয়েছেন।
বাগমারা থানার ওসি মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামি দম্পতিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, তাদের গ্রেপ্তার করা গেলেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য জানা যাবে।