ফুলবাড়ীয়ায় বাড়ী থেকে ডেকে এনে সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দিলেন ইউপি সদস্য

ফুলবাড়ীয়ায় বাড়ী থেকে ডেকে এনে সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দিলেন ইউপি সদস্য

BMTV Desk No Comments

এনায়েতুর রহমান ফুলবাড়ীয়া থেকে : ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় চায়ের দোকানদার আ. খালেক কে বাড়ির বাহিরে ডেকে এনে সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেয় স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম রফিক ও বিএনপি নেতা আবু বকর। পরে তাদের রফিকের মোড়ে রফিকের চায়ের দোকানে নিয়ে সন্ত্রাসীরা মারপিট শুরু করে। ডাক চিৎকার শুনে স্বজন ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের ভর্তি করে। চিকিৎসা শেষ হওয়ার আগেই হাসপাতাল থেকে অজ্ঞাত কারণে ছুটি হয়ে যায়। সু-চিকিৎসার অভাবে লোকটি এখন বাড়ির বিছানায় কাতরাচ্ছে এবং ভয়ে দিন কাটছে।
ভোক্তভোগি চা বিক্রেতা আ. খালেক চোখের পানি ছেড়ে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, আমি একজন নিরীহ মানুষ। আমার দুইটা ছেলে তারা ঢাকায় কাজ করে। আমরা স্বামী-স্ত্রী বাড়ীতে থাকি। আমি সারাদিন চা বিক্রি করি। ঘটনার দিন সোমবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে কয়েকজন ছেলে আমার সাথের বাড়ী আক্তারের বাড়ী থেকে সৈয়দ আলী (সৈও) ও আক্তারের ছেলে মাসুম ২ জনকে আটক করে। আমি হইচই শুনে মোড় থেকে বাড়ীতে আসি এবং আটককৃতদের মেম্বারের হেফাজতে দিতে বলি। তাদেরকে আমার উপস্থিতিতে রফিক মেম্বারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। রফিক মেম্বার তাদের ঠিকানা নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়। হঠাৎ রাত ১০ টার দিকে রফিক মেম্বার ও আবু বকর আমাকে বাড়ী থেকে মোড়ে ডেকে এনে তার দোকানে নিয়ে সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেয় সাথে সাথেই আমাকে মার-পিঠ শুরু করে। তাদের আঘাতে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি আমাকে আমার পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। আ. মজিদ, সাইফুল ও লালু মিয়ার নেতৃত্বে থাকা সংঘবদ্ধ চক্রটি মনে করেছিল আমি মরে গেছি। তারপর তারা আমার খড়ের পালা আগুন দেয়, আমার ভাগিনা আবু তাহেরের বাড়ীতে হামলা চালিয়ে বসত ঘরের ব্যাপক ক্ষতি করে। এ সময় ঘটনার প্রতিবাদ করায় আব্দুল্লাহ ও মেয়ের জেঠাত ভাই মোশা কে মেরে আহত করে। নের্তৃত্বদানকারী আ. মজিদ এখন ওপেন বলছে আমার বাবা একটা মার্ডার করছে আমিও একটা করমু। প্রয়োজনে ৫০ লাখ টাকা খরচ করমু। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, আমি নিরাপত্তা চাই।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, রফিকের মোড়ে লোকজন চা স্টলে বসে আছে। ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতেই তারা এক বাক্যে বলেন, খালেকের উপর যে বর্বারোচিত হামলা হয়েছে তা খুবই ন্যাক্কারজনক। মেম্বার ও নেতা ডেকে এনে কাজটা ঠিক করেনি। মুলত ঘটনা মেয়ে সংক্রান্ত। স্থানীয় আবু তাহের, আ. কাদের ও আবু বকর ছিদ্দিক সহ অনেক লোকজন বলেন, ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ীতে আসেন আক্তার। তার স্কুল পড়–য়া মেয়ে, চেহেরা ছবি ভালো। তার প্রতি নজর পড়ে মজিবুরের ছেলে আলামিন ও মোছার ছেলে ফাহিজ এর। তারা দুইজন এসে ঈদের দিন ঐ বাড়ীর চারদিকে ঘুরঘুর করে এবং ছবি তুলে। ঈদের পরদিন আবার বিকালে আসলে সন্ধ্যার দিকে সৈয়দ আলী (সৈও), আক্তারের ছেলে মাসুম দুইজনে দুই বখাটে যুবক কে আটক করে। আটককৃতদের আ. খালেক কোনকিছু না করে মেম্বারের হাতে তুলে দিতে বলে। আটককৃতরা বাড়ীতে গিয়ে বলে তাদের কে রফিকের মোড়ে আটকিয়ে মারধর করা হয়েছে। বখাটের স্বজনেরা এসে এ ঘটনা ঘটায়। বখাটেদের আটক করল সৈও এবং মাসুম মাইর খাইল খালেক! অথচ তাদের বিরুদ্ধে ইভটিজিং এর দায়ে মামলা হতে পারে।
রোগি হাসপাতালে রেখে মেয়ের বাবা আক্তারের পরিবার কে ভয় দেখিয়ে রাতেই গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করেন পরিকল্পনাকারীরা।
পরদিন সকালে খালেক কিছু বুঝে উঠার আগেই হাসপাতাল থেকে ছুটির নোটিশ পেয়ে যান। পরিকল্পনাকারীরা টাকার বিনিময়ে দালালদের মাধ্যমে রোগি ছুটির ব্যবস্থা করে। রফিক মেম্বার ও আবু বকর তাকে ঘটনার বিচারের আশ^াস দিয়ে বাড়ীতে নিয়ে যায়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন বাদল। ভোক্তভোগি আ. খালেক কিছুটা সুস্থ হয়ে চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করতে গেলে তিনি বলেন, আপনার মামলা-টামলা করার দরকার নাই। আমি সুষ্ঠু বিচার করে দিবো। আপনার মনমতো বিচার না হলে, আমি আপনার সাথে থেকে মামলা করে দিবো।
স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) রফিকুল ইসলাম রফিক চায়ের দোকানদার খালেক কে ডেকে আনার বিষয়টি স্বীকার করেন।
ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন বাদল বলেন, ঘটনাটি খুবই দু:খজনক। ওরা আলোচনায় বসছে না। আমি ভিকটিমকে বলেছিলাম সমাধান না হলে আইনি সহযোগিতা করে দিবো।