মতিউল আলম, ময়মনসিংহ
গত ১৮মার্চ ময়মনসিংহ নগরী ছোট বাজারস্থ নিরালা গেষ্ট হাউজ থেকে অজ্ঞাতনামা তরুণীর (২০) লাশ উদ্ধারের ২৪ ঘন্টার মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। হত্যার সাথে জড়িত মুন্সিগঞ্জ থেকে আসামী রাকিবুল ইসলাম রাকিব (২৩) কে গত ১৯মার্চ সন্ধ্যায় গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত রাকিব মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানার নতুন চরচাষী গ্রামের বাসিন্দা খোকন মিয়ার পুত্র। আজ মঙ্গলবার ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার কায্যালয়ের কনফারেন্স রুমে পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মেদ ভুইয়া এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
কোতোয়ালী মডেল থানার শাহ কামাল আকন্দ জানান, গত ১৪ই মার্চ/২৩ দিবাগত রাত পৌণে ২টা হতে গত ১৮মার্চ দুপুর ১ টার মধ্যে যেকোন সময় নগরীর ছোট বাজারস্থ নিরালা গেষ্ট হাউজের দু”তলায় ২০৯নং কক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা তরুণীর (২০)এর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিকভাবে মৃতদেহের গলায় ধারালো অস্ত্র দ্বারা গুরুত্বর রক্তাক্ত কাটা জখম, বাম ও ডান হাতের কব্জিতে রগ কাটা গুরুত্বর রক্তাক্ত জখমসহ মৃতদেহের নাক, কান, মুখ আংশিক পচনশীল অবস্থাসহ মুখ দিয়ে তরল পদার্থ নির্গত হতে দেখে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমানিত হয়।
উক্ত ঘটনায় মৃতদেহের পরিচয় সনাক্ত না হওয়ায় থানা পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার রুজু করা হয়। মামলাটি তদন্তকালে জানা যায় যে, আসামী রাকিব পড়াশুনার পাশাপাশি নড়াইল সমাজ সেবা অফিসে আউট সোর্সিং এর কাজ করে।
পুলিশ গ্রেফতারকৃত আসামী রাকিবকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায়, গত ১৪মার্চ সন্ধ্যায় আসামী আগারগাঁও অফিস থেকে মিরপুর সেহড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড যায়। আসামী সেহড়াপাড়া ফুটওয়ার ব্রীজ দিয়ে যাওয়ার সময় একজন পতিতা মহিলা তাকে ডাক দেয়। তখন আসামী তার সাথে কথা বলে এবং তাকে ময়মনসিংহ যাওয়ার জন্য প্রস্তাব দেয়।
সেই মহিলা পাঁচ হাজার টাকার শর্তে ময়মনসিংহ যেতে রাজি হয়। পরবর্তীতে একই তারিখ রাত অনুমান ১০টায় আসামী ঐ মহিলাকে নিয়া মহাখালী বাসষ্ট্যান্ডে আসে এবং ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে বাস যোগে রওনা হয়ে রাত অনুমান দেড়টায় দিকে ময়মনসিংহে পৌছায়। পরবর্তীতে হোটেল নিরালায় স্বামী স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে ২০৯নং কক্ষে উঠে। গত ১৫মার্চ সকাল ১০টায় টাকা পয়সা নিয়ে মহিলার সাথে আসামীর ঝগড়ার এক পর্যায়ে মহিলা চড় থাপ্পড় মারে। এর প্রতিশোধ নিতে আসামী বিকাশ হতে টাকা উত্তোলনের কথা বলে বাইরে গিয়ে ১০০ টাকা দিয়ে একটি চাকু ক্রয় করে হোটেল রুমে যায় এবং রুমের দরজা লাগিয়ে উক্ত মহিলাকে গলায় চাপ দিয়ে ধরে ওয়াশ রুমে নিয়ে চাকু দিয়ে গলা কেটে ফেলে এবং মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার জন্য দুই হাতের রগ কাটে। মুখে চাকু দিয়ে আচড় কাটে। তারপর হোটেল রুমের রক্ত পরিস্কার করে হোটেল রুমের দরজায় তালা দিয়ে চলে যায়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই(নিঃ) শাহ মিনহাজ উদ্দিন সহ এসআই (নিঃ) নিরুপম নাগ, এসআই(নিঃ) আনোয়ার হোসেন, কনস্টেবল মিজানুর রহমান অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত আসামী মোঃ রাকিবুল ইসলাম রাকিব(২৩)কে মুন্সীগঞ্জ গজারিয়ার নিজ বাড়ি এলাকা থেকে ১৯মার্চ সন্ধ্যায় তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে হতে গ্রেফতার করেন।##