বিএমটিভি নিউজ ডেস্কঃ
শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের পর গেল চার দিন ধরে দেশজুড়ে কর্মবিরতি পালন করছে বাংলাদেশ পুলিশের বৈষম্যবিরোধী কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি।
সমন্বয় কমিটির দেওয়া ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে বৃহস্পতিবারও দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন পুলিশ সদস্যরা। তবে কবে নাগাদ তারা কাজে যোগ দেবেন সে বিষয়টি এখনও ‘অজানা’।
কোটা সংস্কারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের ডাকা আন্দোলন থেকে শুরু করে শেখ হাসিনা সরকার পতন পর্যন্ত দেশজুড়ে ব্যাপক সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতা নিহতের পাশাপাশি অনেক পুলিশ সদস্য হতাহতের শিকার হয়েছেন।গত ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর দেশের বিভিন্ন থানায় হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এতে পুলিশ সদস্য নিহত এবং অনেকেই থানা থেকে পালিয়ে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।
এদিকে সদ্য নিয়োগ পাওয়া পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ময়নুল ইসলাম দেশের সব পুলিশ সদস্যকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশের ১১ দফা
# বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যে সকল পুলিশ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে তাদের বিচার।
# বাংলাদেশ পুলিশ কোনো সরকার বা রাজনৈতিক দলের অধীনে কাজ করবে না; পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে জনগণের সেবা তথা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত থাকবে।
# সারাদিন ৮ ঘণ্টার বেশি ডিউটি করানো যাবে না।
# অধস্তন কর্মচারীরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কোনো অবৈধ বা মৌখিক আদেশ পালন করবে না।
# অধস্তন কর্মচারীদের পদোন্নতি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পদোন্নতির মতো অবলম্বন করতে হবে।
# বাৎসরিক নৈমিত্তিক ছুটি ২০ দিনের পরিবর্তে ৬০ দিন করাতে হবে।
# ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মত অধস্তন কর্মচারীদের সোর্স মানি দিতে হবে।
# বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি ইউনিটে ১০ তারিখের মধ্যে টিএ এবং ডিএ বিল পরিশোধ করতে হবে।
# নতুন বেতন স্কেল প্রণয়ন করতে হবে।
# ঝুঁকি ভাতা বাড়াতে হবে।
# পুলিশ হেডকোয়ার্টারস থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যেকটি পুলিশ লাইন্স, থানা, ফাঁড়ি, গার্ড, ক্যাম্পের নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করে নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করতে হবে।