গত ২৪ ঘন্টায় ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে ময়মনসিংহ নগরীর অধিকাংশ এলাকা। সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা । এতে নগরবাসী চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শনিবার দুপুর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি শুরু হয় রোববার ভোর পযন্ত বৃষ্টিতে নগরীর প্রধান সড়কসহ অলিগলি পর্যন্ত ডুবে যায়।
অপরিকল্পিত নগরায়ন ও নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করার জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ
রোববার ভোরে তিন ঘণ্টার টানা ভারী বৃষ্টিতে ময়মনসিংহ নগরীর প্রধান প্রধান সড়কগুলোসহ নিচু এলাকাগুলো পানিতে সম্পূর্ণ তলিয়ে যায়।
বিশেষ করে কাশর রোড, সানকিপাড়া, গোলকিবাড়ী, নতুন বাজার, গাঙ্গিনারপাড়, বলাশপুর, খাগডহর, চরপাড়া, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ, ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড, সেহড়া মুন্সিবাড়ি, এবং রেললাইন বস্তি এলাকায় হাঁটু-পানি জমে যায়। অনেক দোকানে পানি ঢুকে পড়ায় ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক গাড়ি মাঝপথে বিকল হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। অনেককে কোমর পানি ভেঙে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা গেছে। বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়লে বিপাকে পড়েন মানুষজন। এর জন্য অপরিকল্পিত নগরায়নকে দায়ী করেন মানুষজন।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খাদিজাতুল কোবরা বলেন, সকাল থেকেই প্রচুর বৃষ্টি। বাসা থেকে বের হয়ে সানকিপাড়া আসতেই দেখি কয়েক কিলোমিটার রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। খুব কষ্ট করে স্কুল আসতে হয়েছে।
পথচারী জহিরুল ইসলাম বলেন, জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হচ্ছে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নত না হওয়া। ময়লা আবর্জনা ড্রেন ও খালগুলো ভরাট হয়ে যাওযায় ফলে দ্রুত পানি নিস্কাশন হয়না এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে ড্রেনের কাজ করা হলেও এর সুফল আমরা পাচ্ছি না।
সানকিপাড়া বাজারের দোকানি আবুল হোসেন বলেন, কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে দোকানের ভেতর হাঁটু পানি। মালামাল সব ভিজে গেছে। সিটি করপোরেশনের গাফিলতির কারণে সাধারণ মানুষ হিসেবে প্রতিবছর আমাকে এই ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
অটোরিকশা চালক রুহুল আমিন বলেন, সকাল থেকে বলা চলে শহরের অধিকাংশ রাস্তা পানিতে তলিয়ে রয়েছে। কোন ভাবেই রিকশা চালাতে পারছি না। বর্ষাকালে প্রায়ই আমাদের এমন ভোগান্তিতে হয়।
ময়মনসিংহ আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক নির্মল চন্দ্র মজুমদার জানান, নিম্নচাপটির অবস্থান বর্তমানে উড়িষ্যার দিকে আছে। এটি বাংলাদেশের দিকে আসার সম্ভাবনা আপাতত নেই। গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহে বাতাসের গতিবেগ ছিল ৪ থেকে ৬ নটিক্যাল মাইল। গত শনিবার সকাল ৬টা থেকে রোরবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে রোববার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ময়মনসিংহ আবহাওয়া অফিস থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আরও কমে আসবে। তবে শনিবার এবং রোরবার সকাল ৯টা পর্যন্ত যে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে তা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতাকে এই জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন নগরবাসী। তাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না রাখার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই শহর ডুবে যায়। এছাড়া নাগরিকদের অসচেতনতাও একটি অন্যতম কারণ। পলিথিনসহ বিভিন্ন আবর্জনা নিদিষ্ট স্থানে না ফেলে ড্রেনে ফেলে দেয়।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মিয়া জানান, নগরীতে অনেকগুলো ড্রেনের পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। আবার নতুন করে ১২০ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ হচ্ছে। এগুলো শেষ হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। তিনি আরও জানান, এ বছর কিছুটা জলাবদ্ধতা সমস্যা থাকলেও সামনের বছর উপকৃত হবে নগরবাসী। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি নগরবাসীকে স্বস্তি দেওয়ার জন্য।##
মতিউল আলম