স্টাফ রিপোর্টার, বিএমটিভি নিউজঃময়মনসিংহ নগরীর ঐতিহ্যবাহী নাসিরাবাদ কলেজের অধ্যাপক, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট লেখক, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক যতীন সরকারের (৯০) মৃত্যুতে ময়মনসিংহ, নেত্রকোনাসহ সর্বত্র শোকের ছায়া্ নেমে আসে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী কারণ সরকার এবং এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান। তার মৃত্যুর খবরে হাসপাতালে ছুটে আসেন পরিবারের সদস্যরাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী। এ সময় তারা প্রিয় মানুষকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক যতীন সরকারের মৃত্যুতে স্লোভাকিয়া প্রবাসী একমাত্র ছেলে সুমন সরকার ও একমাত্র মেয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সুদীপ্তা সরকার তার বাবা্র লাশ জড়িয়ে আহাজারি করছিল। তারা বলেন, বাবার জন্য দেশবাসীর কাছে আশীর্বাদ কামনা করে তিনি বলেন, বাবা চলে গেছেন, এটা দেশ ও সাহিত্য অঙ্গনের অপূরণীয় ক্ষতি। তারপরও বাবা তার স্বাভাবিক জীবন কাটিয়ে চলে গেছেন। তিনি ঘটনাবহুল এবং বর্ণাঢ্য জীবন কাটিয়েছেন। নব্বই বছরের জীবনে তার যাত্রা পরিপূর্ণ হয়েছে এই পৃথিবীতে। তিনি যা দিতে পেরেছেন, তার কর্মে তিনি বেঁচে থাকবেন। আপনারা তাকে প্রার্থনায় রাখবেন, এটাই আমাদের চাওয়া।
বুধবার (১৩ আগস্ট) বিকেল পৌনে ৩টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অধ্যাপক যতীন সরকার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার পর এভাবেই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রায় আড়াই মাস ধরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন উল্লেখ করে সুদীপ্তা সরকার আরও বলেন, বাবা অনেকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। গত আড়াই মাস উনি হাসপাতালেই কাটিয়েছেন। তবে মারা যাওয়ার আগে বিশেষভাবে উনি ওনার কোনো শেষ ইচ্ছা আমাদের কাছে বলে যাননি। মূলত পরিবারকেন্দ্রিক ওনার কোনো ইচ্ছা ছিল না। ‘আমার এটা’, ‘আমার সেটা’, এরকম কোনো কিছু ওনার ছিল না। উনি সব সময় দেশকে নিয়ে ভাবতেন। দেশ এবং মানুষ নিয়েই ওনার চিন্তা ছিল।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে উপপরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম ও সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনি সমস্যা, নিউমোনিয়াসহ বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। নিয়মিত ওনার ডায়ালাইসিস চলছিল। তার চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড গঠনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হয়েছে। কিন্তু টানা ছয় দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ বিকেল পৌনে ৩টায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
প্রবীণ এই শিক্ষাবিদের মৃত্যুতে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জেলা সিপিবির সভাপতি অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক মিল্লাত বলেন, অধ্যাপক যতীন সরকারের শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। বাংলা সাহিত্যে তিনি অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন প্রাবন্ধিককে হারিয়েছে, একজন দেশপ্রেমিক লড়াকু মানুষকে হারিয়েছে। এ ক্ষতি আমাদের জন্য সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় মরদেহ নিয়ে নেত্রকোনা শহরের সাতপাই নিজ এলাকায় রওনা হয়। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে স্থানীয় শ্মশানে তার শেষ দাহ করা হবে।###