স্টাফ রিপোর্টার, বিএমটিভি নিউজঃ
ময়মনসিংহ নগরীতে অস্থায়ী নিউ হকার্স মার্কেট এবং রাস্তার দুপাশে ফুটপাতে অবৈধ ভাসমান দোকান-হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছেন টাস্কফোর্স।
অভিযানে অস্থায়ী হকার্স মার্কেট গুড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পাঁচ দোকানীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাজমহলের মোড় থেকে নতুন বাজার এলাকায় রাস্তার দুপাশে ফুটপাতে অবৈধ ভাসমান দোকান ও হকার উচ্ছেদে চলাচলে ফিরেছে স্বস্তি।
পূর্ব ঘোষনা অনুযায়ী ময়মনসিংহ নগরীতে সাধারণ মানুষের চলাচলে স্বস্তি ফেরাতে রবিবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করেন টাস্কফোর্স।
অভিযানে নেতৃত্বদেন সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ শাহনেওয়াজ মোর্শেদ অপু।
অভিযানে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন নূর মোহাম্মদ নাহিয়ান ইসলাম, র্যাব-১৪ সদর দপ্তরের ডিএডি রফিক, আনসার ও ভিডিপি জেলা কমান্ডেন্ট রবিউল ইসলাম, ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্টেশনরোডে অভিযান শুরুর আগে নিউ হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ীদের মালামাল সরিয়ে নিতে ১৫ মিনিট সময় দেয়া হয়। তড়িগড়ি করে ব্যবসায়ীরা দোকান থেকে মালামাল সরান। পরে অস্থায়ী ভাবে নির্মিত স্থাপনাটি এস্কাভেটর দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়। এসময় ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান তাদের পুনর্বাসন করার জন্য।
ব্যবসায়ী নূর আলম বলেন, জেলা প্রশাসক আমাদেরকে এখানে ব্যবসা করার জন্য অস্থায়ীভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে দিয়েছিলেন। এখন হঠাৎ করে আমাদের না জানিয়ে ভাঙা হলো বিষয়টি বুঝতে পারলাম না। বাল-বাচ্চা নিয়ে চলাটা খুব কঠিন হবে।
বাচ্চু মিয়া নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি পরিবারের কথা চিন্তা করে পুনর্বাসন করা হোক। আগে রাস্তার পাশে বসার কারণে সমস্যা হত, যানজট ভোগান্তিতে মানুষ পড়তো। তাই এখানে চলে এসেছিলাম, এটাও আমাদের জন্য স্থায়ী হল না।
আরেক ব্যবসায়ী রুপন মিয়া বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে ফুটপাতে ব্যবসা করে পরিবার পরিজন নিয়ে চলছি। আজ থেকে সবকিছু ভেঙে দেয়া হল এখন কি করব ভেবে পাচ্ছি না। আমাদের বিষয়টি যেন প্রশাসন বিবেচনা করে।
গাঙ্গিনারপাড় এলাকার বাসিন্দা হামিদুল ইসলাম বলেন, হকার উচ্ছেদে স্বস্তি ফিরেছে গাঙ্গিনারপাড় এলাকায়। প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত গাঙ্গিনারপাড় এলাকায় রাস্তার দুপাশে হকার বসার কারণে তীব্র যানজট হত। ছিনতাইকারীরা ছিনতাইয়ের সুযোগ পেত। এখন আমরা খুব স্বাচ্ছন্দে চলাচল করতে পারছি। এমন পরিবেশ বজায় থাকলে যানজট অনেকটাই কমে যাবে।
গাঙ্গিনারপাড় ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুজ্জামান ছোটন বলেন, সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে তাজমহলের মোড় থেকে নতুন বাজার এলাকা পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে ফুটপাতে অবৈধ ভাসমান দোকান ও হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে। সেই স্থানগুলোতে যে হকাররা না বসতে পারে সেই লক্ষ্যে ২৫ জন আনসার সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে। তাদের ব্যয়ভার বহন করবে ব্যবসায়ীরা। আশা করি এতে করে স্থায়ীভাবে হকার মুক্ত হবে। মানুষের চলাচল হবে নির্বিঘ্নে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ শাহনেওয়াজ মোর্শেদ অপু বলেন, নগরীর প্রধান সড়ক স্টেশন রোড থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত ফুটপাতে অবৈধভাবে গড়ে উঠা এসব দোকান ও হকারদের কারণে পথচারীদের চলাচলে চরম বিঘ্ন সৃষ্টি হতো। এতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজট নিরসনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর আগে এসব সড়কে অবৈধ হকার উচ্ছেদ অভিযানের আগে জেলা তথ্য অফিস থেকে সতর্ক করে প্রচার করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, মূলত মানুষের চলাচলে স্বস্তি দিতে অভিযান করা হয়েছে। কোন হকার যেন অবৈধ ভাবে রাস্তার পাশে আর বসতে না পারে সে লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত থাকবে। হকারদের কোন দাবি দাওয়া থাকলে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে বলতে পারে।
সাধারণ মানুষ বলছেন যুগ যুগ ধরে দেখছি এই উচ্ছেদ হচ্ছে। আবার পূনঃ ফুটপাতে দোকান বসছে। এর একটা স্থায়ী হওয়া সমাধান প্রয়ো্জন। ভা্ঙ্গাগড়ার খেলা বন্ধ হোক।পথচারীরা ফুটপাত দখল করে অবৈধ দোকানপাট বসার ফলে পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সৃষ্টি হয় যানজট। এর একটা স্থায়ী হওয়া সমাধান দাবী করেন ভুক্তভোগীরা।
এনায়েতুর রহমান