৫৪ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো দেশকে বদলে দেওয়ার এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ

৫৪ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো দেশকে বদলে দেওয়ার এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ

BMTV Desk No Comments

(বাসস) : শুধুমাত্র একজন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে নয়, একজন নাগরিক হিসেবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করার দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ৫৪ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো দেশকে বদলে দেওয়ার এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ এসেছে। কোনো নাগরিক এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিতদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণায় আইনগত বা সাংবিধানিক বাধা নেই।

তিনি বলেন, “সংস্কারের সবচেয়ে বড় ম্যান্ডেট এসেছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান থেকে। এ পর্যায়ে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার মাধ্যমে সেই ম্যান্ডেটকে পূর্ণতা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।”

গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে আজ বৃহস্পতিবার বিকালে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আলী রীয়াজ এসব কথা বলেন। সভায় বিভাগের বিভিন্ন স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক, শিক্ষক, এনজিও কর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন এতে সভাপতিত্ব করেন। মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ। স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতায় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্যই আইনসভার উচ্চকক্ষ গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। এবারের গণভোটে জনগণ রায় দিলে আইনসভায় নাগরিকদের প্রত্যেকটা ভোটের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে সংবিধান সংশোধন এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন আসবে। একাত্তরের ধারাবাহিকতায় ২০২৪-এ আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদের মোকাবিলা করেছি। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়েই গণভোটকে সফল করতে হবে।

১৬ বছর দুদককে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে একে বিরোধী দল দমন কমিশন বলা ভালো উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, বিদ্যমান সাংবিধানিক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর হাতে সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি নির্বাহী প্রধান, একই সঙ্গে সংসদ নেতা এবং রাজনৈতিক দলের প্রধানের দায়িত্বও প্রধানমন্ত্রীর হাতেই থাকে। ক্ষমতা এককেন্দ্রিক করার কারণেই ক্ষমতাসীনেরা ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার সুযোগ পায়। এ কারণেই জুলাই সনদে এক ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী থাকার মেয়াদ ১০ বছরে সীমিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়া, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিষয়ক সংসদীয় কমিটিগুলোতে বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর কথা হয়েছে।

জুলাই সনদের প্রতিটি ছাপার অক্ষর কালো হলেও এগুলো শহীদের রক্তে লেখা উল্লেখ করে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, যাদের রক্তে এই সনদ লেখা হলো তারাই দেশকে পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব আমাদেরকে দিয়েছেন।

গণভোটে সরকারের তরফে প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ গণভোটের মার্কা টিক চিহ্ন উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচনের দিন গোলাপি রঙের ব্যালটে টিক চিহ্নের ওপর সিল দিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ শাসনব্যবস্থা ও সুশাসিত বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যেতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার বলেন, গণভোট কারও একার এজেন্ডা নয়, দেশের সকল রাজনৈতিক দল, আইনজ্ঞ, সংবিধান বিশেষজ্ঞ সবাই মিলে জুলাই সনদ তৈরি করেছে। গত ৫৪ বছরেও আমরা দেশে ইনসাফ কায়েম করতে পারিনি। স্বাধীনতার যে লক্ষ্য ছিল তা অর্জন করতে পারিনি।

তিনি বলেন, এবারো যদি আমরা স্বাধীনতার লক্ষ্য একটি ন্যায়, সাম্য ও ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে না পারি, তাহলে আমাদের স্বাধীনতা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

মনির হায়দার অভিযোগ করেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্যের বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে ও সঠিক তথ্য জানাতে সবাইকে কাজ করতে হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকভাবে গড়ে উঠতে পারেনি। ফলে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা বারবার প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছে, মর্যাদা হারিয়েছে।’ সরকারি কর্মচারীরা সুশাসনের পক্ষে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে গণভোটের মাধ্যমে জুলাই শাসন বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

এর আগে, দুপুরে একই ভেন্যুতে চট্টগ্রাম বিভাগের প্রায় ১২০০ মসজিদের ইমামদের নিয়ে গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *