বিএমটিভি ডটকম নিউজ ডেস্কঃ
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৃষি শিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) প্রতিষ্ঠার ৬০তম বছরে পা দিচ্ছে আজ।
ময়মনসিংহে অবস্থিত কৃষিশিক্ষা ও গবেষণার আঁতুড়ঘর খ্যাত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) আজ ১৮ আগস্ট ৫৯ পেরিয়ে ৬০ বছরে পা দিচ্ছে।
কৃষি ও কৃষি বিজ্ঞানের সকল শাখায় উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৫৯ সালের জাতীয় শিক্ষা কমিশন এবং খাদ্য ও কৃষি কমিশনের সুপারিশের ১৯৬১ সালের আজকের এই দিনে ময়মনসিংহ শহরের অদূরে পূর্ব পাকিস্থান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নামে যাত্রা শুরু করে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর এ বিশ^বিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয় (বাকৃবি)।
বিশ্ববিদ্যালয়টির ৫৯ বছরের দীর্ঘ পথচলায় দেশের কৃষিতে এসেছে অনেক সাফল্য। ধান, সরিষা, কুল, সয়াবিন, আলু, আম, লিচু, মুখিকচুসহ বেশ কিছু ফসলের কয়েকটি করে উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রায় সাড়ে ১১ হাজার ফলদ, ভেষজ প্রজাতির বৃক্ষসমৃদ্ধ এখানকার জার্মপ্লাজম সেন্টারটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং দেশে প্রথম। গাঙ মাগুর, কই, বাটা মাছ, তারাবাইন, গুচিবাইন, বড় বাইন, কুঁচিয়াসহ বিভিন্ন মাছের কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতিও উদ্ভাবন করেছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণাকে বেগবান করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বেশকিছু বিশেষায়িত গবেষণাগার।
শোকের মাস আগস্ট এবং করোনাভাইরাসের কারণে প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে জাঁকজমকপূর্ণ তেমন কোনো কর্মসূচি হাতে নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে আজ সকালে ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ শহর থেকে চার কিলোমিটার দক্ষিণে পুরোনো ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীরে এক হাজার ২০০ একর জায়গায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টিতে মোট ছয়টি অনুষদে ৪৩টি বিভাগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত ৪৮ হাজার ৬৮৫ শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি দিয়েছে। এর মধ্যে স্নাতক ২৮ হাজার ৯৩০ জন, স্নাতকোত্তর ১৯ হাজার ৫ জন এবং পিএইচডি ৭৫০ জন। বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী সাত হাজার ৯২৩ জন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ৫৬৩ জন। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছেলেদের জন্য ৯টি ও মেয়েদের জন্য ৪টি আবাসিক হল রয়েছে।