এনায়েতুর রহমান, ফুলবাড়ীয়া থেকে : “চোরে না শুনে ধর্মের কথা” মসজিদের সামনে তালা বদ্ধ করে নামাজ পড়তে যায় লাল মিয়া, নামাজ শেষে দেখে তার রিকশা নেই। এই অসহায় পরিবারের দু:খ ঘুচাতে এগিয়ে এসেছে উই আর বাংলাদেশ (ওয়াব) নামের একটি সংগঠন। একটি নতুন রিকশা প্রদানের মাধ্যমে ঐ পরিবারের কষ্ট লাঘব হয়। শনিবার বেলা ১২টায় ফুলবাড়ীয়া উপজেলা পরিষদ চত্বর হতে এ রিকশা হস্তান্তর করা হয়। উই আর বাংলাদেশ (ওয়াব) এর রিকশা হস্তান্তর করেন উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নাহিদুল করিম। রিকশা পেয়ে লাল মিয়া (লালু) দারুন খুশি। দু’হাত তুলে দোয়া ছাড়া কিছুই দেওয়ার মত নেই তার। হস্তান্তরকালে বীরমুক্তিযোদ্ধা, এমপ্যাথি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন পর্যায়ের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
কয়েকমাস আগে রিকশা রেখে নামাজ পড়তে গিয়ে রিকশাটি চুরি হয়েছিল লালু মিয়ার রিক্সা। তারপর থেকে খুব কষ্টে দিন চলছিল তার। দৈনিক মজুরিতে কাজ সন্ধান করলেও মাঝে মধ্যেই কাজ না থাকায় অলস সময় কাটাতে হয় তার। অসহায়ত্বের ঘটনা নিয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর ‘চোর মানে না ধর্মের কাহিনী’ শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। সেই লালু মিয়ার রিক্সা ক্রয়ে একটি ফান্ড তৈরি করার চেষ্টা অব্যাহত থাকে। বিষয়টি নিয়ে এমপ্যাথি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাইফুল ইসলাম সাইফ বিভিন্ন সামাজিক গ্রুপে যোগাযোগ করেন। তাতেও উল্লেখযোগ্য সাড়া পড়েনি। কিন্তু হাল ছাড়েননি মানবিক মানুষ সাইফুল ইসলাম সাইফ। যোগাযোগ করেন ‘উই আর বাংলাদেশ’ (ওয়াব) নামে সেবামূলক ফেসবুক গ্রুপের সাথে। গ্রুপের এডমিন এস.এম আকবর পেশায় একজন পুলিশ সদস্য। মানবিক কাজ করে তিনি দেশের সেরা প্লাটফর্মে রয়েছেন। দেশের বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে তিনি হয়েছেন মানবতার ফেরিওয়ালা। এস.এম আকবর বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক কাজ শুরু করেন। তারা অসহায় পরিবারের সততা যাচাই বাছাই করে ৬ ডিসেম্বর রাত ৯টার দিকে তাদের গ্রুপে একটি ভিডিও আপলোড করেন লালু মিয়ার। লালু মিয়ার একটি করুণ আর্তনাদ গ্রুপ সদস্যদের মনে দাগ কাটে। রিক্সা ক্রয়ের বাজেট পূর্ণ হয়ে যায়। চলে ক্রয় পদ্ধতি। জামালপুর থেকে একটি ভালো মানের রিক্সা ক্রয় করা হয়। যা দেখে সবাই অবাক। এত সুন্দর রিকশা।
এমপ্যাথি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাইফুল ইসলাম সাইফ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়ে আমার অনেক খারাপ লেগেছে। এরপর থেকে আমি বিভিন্ন জায়গায় নক করি, শেষ পর্যন্ত উই আর বাংলাদেশ (ওয়াব) এর এডমিন শ্রদ্ধেয় এস.এম. আকবর মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখি। তার বিশ্বাস ছিল তিনি আলো টেনে নিয়ে আসবেন। অবশেষে তিনি আলো টেনে এনেছেন। পরিবার অনেক খুশি অতএব আমরাও খুশি। কৃতজ্ঞতা জানাই সবার প্রতি।