মানসিক ভারসাম্যহীন কি-না তা নিশ্চিত হতে সমু চৌধুরীর কাছে যাচ্ছেন চিকিৎসক

মানসিক ভারসাম্যহীন কি-না তা নিশ্চিত হতে সমু চৌধুরীর কাছে যাচ্ছেন চিকিৎসক

BMTV Desk No Comments

স্টাফ রিপোর্টার, বিএমটিভি নিউজঃ

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে জনপ্রিয় অভিনেতা সমু চৌধুরী প্রকৃতই মানসিক ভারসাম্যহীন কি-না তা নিশ্চিত হতে সমু চৌধুরীর কাছে যাচ্ছেন চিকিৎসক। অস্বাভাবিক অবস্থায় উদ্ধারের পর তিনি ‌‘মানসিক ভারসাম্যহীন বলে ধারণা করছেন সবাই।

বৃহস্পতিবার (১২ জুন) রাত ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এন এম আবদুল্লাহ-আল-মামুন।তিনি বলেন, ‘এরইমধ্যে অভিনেতা সমু চৌধুরীর ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এই অভিনেতার আচরণের দৃশ্য দেখতে পেয়েছি। সবাই বলছেন, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় এখানে এসেছেন। আসলেই মানসিক ভারসাম্যহীন কি-না তা নিশ্চিত হতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসক যাচ্ছেন। আমিও যাচ্ছি।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, ‘সমু চৌধুরীর কাছে যেতে এরইমধ্যে গাড়িতে করে রওয়ানা হয়েছি। তার সঙ্গে বিভিন্ন কথাবার্তা বলবো। এতেও মানসিক ভারসাম্যহীন নিশ্চিত হতে না পারলে প্রাথমিক চিকিৎসাসহ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। তবে কথাবার্তা বললেই মানসিক ভারসাম্যহীন কি-না তা অনেকাংশেই জানা যাবে।

’পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস আলম বলেন, সমু চৌধুরীকে চেষ্টা করেও থানায় নিতে পারিনি। অন্য কোথাও যাবেন না বলে জানিয়েছেন। তিনি এখনো মাজারের সঙ্গে অবস্থান করছেন।

এদিকে সমু চৌধুরীকে দেখতে অনেক লোকজন ভিড় জমিয়েছেন। এ অবস্থায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী সেখানে অবস্থান করছে। তবে পরিবারের লোকজনসহ অভিনয়শিল্পী সংঘের কেউ এখনো ঘটনাস্থলে আসেননি।

এরআগে বিকেলে উপজেলার পাগলা থানার মুখী শাহ্ মিসকিনের মাজারের পাশে গাবগাছের নিচে গামছা পরে সমু চৌধুরীর শুয়ে থাকার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে প্রথমে খালি গায়ে গামছা পরা অবস্থায় সমু চৌধুরীকে দেখা যায়। পরে অবশ্য টাউজার ও গেঞ্জি পরা অবস্থায় উপস্থিত স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সামনে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি মাজারে এসেছি। খুবই সুন্দর জায়গা। মানুষগুলো খুব ভালো। এখানে এত সহজ-সরল মানুষের দেখা পাওয়া যায়’। এমন আরও অনেক কথাবার্তা বলে হেসে হাততালি দেন সমু চৌধুরী। সবার ধারণা, সমু চৌধুরী মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে একা একা মাজারে চলে এসেছেন।

নব্বইয়ের দশকে টেলিভিশন নাটকে দর্শক মাতিয়েছিলেন এই মঞ্চ অভিনেতা। মাঝে অভিমান করে অভিনয় ছেড়ে গ্রামের বাড়ি যশোরে চলে গিয়েছিলেন। পরে শিল্পী ঐক্য জোটের মাধ্যমে আবারও অভিনয়ে ফিরে আসেন।
নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন সমু চৌধুরী। ১৯৯৫ সালে আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘আদরের সন্তান’ ছবির মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার। এরপর ‘দোলন চাঁপা’, ‘শত জনমের প্রেম’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘দেশ দরদী’, ‘মরণ নিয়ে খেলা’, ‘প্রেমের নাম বেদনা’, ‘যাবি কই’, ‘সুন্দরী বধূ’সহ বেশকিছু ছবিতে অভিনয় করেন।