ধোবাউড়ায় সাবরেজিষ্টার অফিসে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে সত্যতা পেয়েছে দুদক

ধোবাউড়ায় সাবরেজিষ্টার অফিসে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে সত্যতা পেয়েছে দুদক

BMTV Desk No Comments

স্টাফ রিপোর্টার,   ময়মনসিংহের ধোবাউড়া সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস যেন ঘুষ দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছিল। জমি দলিল করতে গিয়ে নানানভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। গুনতে হয়েছে অতিরিক্ত টাকা। দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুমতি ছাড়া দলিল রেজিষ্ট্রি করেন না সাব-রেজিষ্টার রায়হান হাবিব। একেকটি দলিল করতে গিয়ে সরকারি খরচের অতিরিক্ত ১০ হাজারের বেশি টাকা গুনতে হয়েছে। অতিরিক্ত এই টাকা দলিল লেখক সমিতিতে জমা দিলেই তবে জমি রেজিষ্ট্রি করতেন সাব-রেজিষ্টার। দলিল লেখকদের অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য করতেন সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম খান বিপ্লব ও সাধারণ সম্পাদক আঃ কুদ্দুস। এসব বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন এবং বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন ধোবাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তোষ বিশ্বাস বাবুল।
অভিযোগ রয়েছে, ধোবাউড়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার রায়হান হাবীব দলিল লেখক সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কদ্দুসের সঙ্গে মিলে সরকারি ফি’র অতিরিক্ত টাকা আদায় করেন। অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামে দুদকের সহকারী পরিচালক বুলু মিয়ার নেতৃত্বে একটি দল। অভিযুক্ত ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন তদন্ত কর্মকর্তারা। এতে অভিযোগের সত্যতা পায় তদন্ত দল। পরে সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানি এবং অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধে অভিযুক্তদের সতর্ক করা হয়। গত বুধবার রাতে দুদকের ফেসবুক আইডিতে বিষয়টি প্রকাশ করা হয়।
দুদকের ময়মনসিংহ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বুলু মিয়া বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
ধোবাউড়া সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দলিল লেখকের সংখ্যা ১০৬। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের নেতা ৩৫ জন। দলিল লেখক সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম খান বিপ্লব উপজেলা শ্রমিক লীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কদ্দুস ধোবাউড়া সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তোষ বিশ্বাস বাবুল বলেন, জমিদাতা ও গ্রহীতার কাছ থেকে দলিলপ্রতি দলিল লেখক সমিতির নামে ১০ হাজার এবং সাব-রেজিস্ট্রারের নামে ৪ হাজার টাকা করে অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছিল। গত ২৫ জুলাই সাব-রেজিস্ট্রার, দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
দলিল লেখক সমিতির সভাপতি বিপ্লব বলেন, তিনি দুদকের মুখোমুখি হলেও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কদ্দুস অন্য কাজে থাকায় মুখোমুখি হননি। তাঁদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়। তাঁর ভাষ্য, গ্রামের দরিদ্র মানুষের এত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই। অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়টি সত্য নয়।
সাধারণ সম্পাদক আবদুল কদ্দুসের ভাষ্য, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তোষ বিশ্বাস বাবুল। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন বলে দাবি তাঁর।
২০২১ সালের ৯ অক্টোবর ধোবাউড়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন রায়হান হাবীব। অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ঢাহা মিথ্যা কথা। কিছু দলিল লেখক তাঁর নাম করে এমনটি করতে পারেন। তাঁর নজরে আসায় হাতেনাতে জালিয়াতি ধরে ইতোমধ্যে অন্তত তিনজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, অভিযোগ ওঠার পর তিনি নিজেও তদন্ত চেয়েছেন। জেলা রেজিস্ট্রার ও ফুলবাড়িয়ার সাব-রেজিস্ট্রার তদন্ত করেছেন। দুদক সত্যতা পাওয়ার যে কথা বলেছে, তার প্রতিবাদ করবেন তিনি।###