মতিউল আলম, বিএমটিভি নিউজঃ
আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে চিরকুট লিখে বাড়ি থেকে বের হয়ে স্টেশনে বসে অপেক্ষা করছিল ট্রেন আসলেই ঝাপ দিবে ট্রেনের নীচে ।মুক্তাগাছা থানা পুলিশ বিষযটি জানতে পেরে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে জানতে পারে, আত্মহত্যা করার উদ্দেশ্যে ব্যক্তিটি বেগুনবাড়ী বিদ্যাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থান করছে। সাখে সাথে পুলিশ গিয়ে আজ রোববার তাকে উদ্ধার করে। তিনি হচ্ছেন ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার সন্তোষপুর চেচুয়া গ্রামের কানাই চন্দ্র সূত্রধর(৫০) । তিনি মুক্তাগাছা চেচুয়া বাজার দাখিল মাদ্রাসায় অফিস সহকারী পদে চাকুরী করেন।
পুলিশ জানায়, কানাই চন্দ্র সূত্রধর এর স্ত্রী শিখা রানী সূত্রধর (৪০) গত ২৪ জুন থানায় এসে মোখিকভাবে জানান যে, তার স্বামী কানাই চন্দ্র সূত্রধর (৫০) মুক্তাগাছা চেচুয়া বাজার দাখিল মাদ্রাসায় অফিস সহকারী পদে চাকুরী করে। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে লক্ষ্ণীখোলা এলাকায় ভাড়াটিয়া বাসায় বসবাস করে। বাসা ভাড়া ও বাজার খরচ সহ ছেলে মেয়েদের খরচ চালাতে না পেরে এবং ঋণের দায় পরিশোধ করতে না পেরে গত ২৪ জুন স্বহস্তে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে চিরকুট লিখে বাড়ী থেকে সকলের অগোচরে বেরিয়ে যায়। চিরকুটটি থানা-পুলিশের হস্তগত হলে তাৎক্ষনিকভাবে কানাই চন্দ্র সূত্রধর(৫০)-কে উদ্ধারের জন্য মুক্তাগাছা থানা পুলিশ সচেষ্ট হয় ।
অত:পর তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে আজ রোববার ২৫ জুন জানা যায় যে, নিখোঁজ ব্যক্তি বেগুনবাড়ী বিদ্যাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থান করছে। তাৎক্ষনিকভাবে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ সংগীয় অফিসার-ফোর্সসহ নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের লোকজনের সনাক্তমতে বেগুনবাড়ী বিদ্যাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন হতে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
উদ্ধারকৃত কানাই চন্দ্র সূত্রধর-কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে বিদ্যাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন আসার জন্য অবস্থান করছিলেন। নিখোঁজ ব্যক্তিকে সুস্থ অবস্থায় পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে এবং অফিসার ইনচার্জের পক্ষ হতে কিছু নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। কানাই চন্দ্রের ছেলে জয় ও মেয়ে অর্পিতা বাবাকে ফিরে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ে। পুলিশের তাৎক্ষনিক ভুমিকা রাখার জন্য ময়মনসিংহ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল সহ অফিসার ইনচার্জকে ধন্যবাদ জানান।##