
You must need to login..!
Description
স্টাফ রিপোর্টার, বিএমটিভি নিউজঃ
ময়মনসিংহের হজরত শাহ সুফি সৈয়দ কালু শাহ’র (রহ.) মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও সামা কাওয়ালি অনুষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শতাধিক বছরের পুরনো কালু শাহ’র মাজার ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে অনুষ্ঠান চলাকালীন এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শিল্পী মিজান বাউলা বলেন, গত ৪৫ বছর ধরে হজরত শাহ সুফি সৈয়দ কালু শাহ’র (রহ.) মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও সামা কাওয়ালি অনুষ্ঠান হয়ে আসছে। কোনো দিন এমন ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু গতরাতে আমি যখন ইসলামিক গান পরিবেশন করছি, তখন বড় মসজিদ মাদরাসার একদল শিক্ষার্থী এসে হামলা চালায়। এতে ২/৩ জন আহত হয়েছে। এ সময় প্লাস্টিকের চেয়ার, সাউন্ড সিস্টেম ও মঞ্চ ভাঙচুর করা হয়। এরপর তারা মাজারটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে একের এক মাজারে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় অনেক ক্ষোভ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। কিছু আগে শেরপুর জেলা সদরে পীর খাজা বদরুদোজার আল-মুজাদ্দেদীর দরবারে মাদ্রাসা ছাত্ররা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে। তাহলে এদেশে অন্য মত পথের লোকজন তাদের ধর্ম-কর্ম পালন করতে পারবে না।
জামিয়া ফয়জুর রহমান (রহ.) মাদরাসার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা সারোয়ার হোসেন বলেন, কাওয়ালি অনুষ্ঠানে নারী ও পুরুষ একসঙ্গে নাচ-গান করছিল। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মুসুল্লি ও ছাত্ররা মিলে হামলা চালিয়েছে।
মাজার ও সামা সঙ্গীতে অনুষ্ঠানে ভাংচুরের নিন্দা জানিয়ে মামুন রনি তার ফেইসবুকে লিখেছেন, আপনাদের চোখে মাজারওয়ালাদের কাজকাম অধর্ম মনে হইলে আপনি তারে যুক্তি প্রমাণ দিয়া বুঝান (যদি সে শুনতে সম্মত হয়)। এরপর সে যেইটা ভালো মনে করবো ধর্ম বিশ্বাস নিয়া সে সেইটাই করুক। বুইঝ্যা শুইনা দোজখ বা বেহেশতে যাওয়ার অধিকার সবারই আছে।
হাদিস কোরআনে কয় নাই আপনি আপনার বিশ্বাস আরেকজনের ভেতরে মাইরা, ভাইংগা ঢুকান। আল্লায় তো মুহম্মদ সা: রেও চাপাচাপি করতে সাবধান করছেন। আরেকজনের অনুভূতি ভাংচুর করার অধিকার আইন এবং ধর্ম কোথাও নাই। আপনি যে হুজুর সাজলেন সেটা ধর্ম মাইন্যা না বরং ধর্মের লেবাস মাইন্যা।
এসব কইরা হুজুররা ঘৃণা ছড়াইতেছেন। ইসলামের সুন্দরেরে কালি দিয়া লেপতেছেন। এইগুলা কইরা আপনারা বরং আপনাদের থাইক্যা মানুষরে দূরে ঠেলতেছেন। আর এই কর্মকান্ডের বিচার হিসাবে আপনিই আগে দোজখে যাইয়া বইসা থাকতে পারেন এবং বাইচ্যা থাকাকালেও দেশের আইন এবং মানুষের ঘৃণার কবলে পইড়া শাস্তির সামনাসামনি অইতে পারেন। মানুষরে আপনার চোখে ভালো বানানোর আগে আপনি নিজে ধর্মের চোখে ঠিক হওয়ার চেষ্টা করেন। আপনারা যেভাবে অশান্তি করতেছেন তাতে ইসলাম অর্থ শান্তি বজায় থাকে না।
এই বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম খান বলেন, মাদরাসার ছাত্ররা কাওয়ালির মঞ্চ ও মাজার ভাঙচুর করেছে। এ সময় অনুষ্ঠানের বেশকিছু চেয়ার ভাঙচুর করা হলেও কেউ আহত হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।##