ত্রিশালে পোল্ট্রির বর্জ্যের দূর্গন্ধে অতিষ্ট এলাকাবাসিঃ বাড়ছে মশা-মাছি নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ

image

You must need to login..!

Description

স্টাফ রিপোর্টার ময়মনসিংহ ও ত্রিশাল প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের নামাপাড়ায় জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পোল্ট্রির বর্জ্যরের দূর্গন্ধে অতিষ্ট এলাকাবাসি। শ্বাসকষ্টজনিতসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু থেকে বয়োবৃদ্ধ । পোল্ট্রি খামারের বর্জ্যে চরম পরিবেশ দূষণ সৃষ্টি হয়েছে, বৃদ্ধি পাচ্ছে রোগ বালাই। দূষিত হচ্ছে আশপাশের জলাশয়, বাড়ছে মশা-মাছির উপদ্রব এবং নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এলাকার মানুষ।
সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী, জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে কমপক্ষে ৫০০ গজ দূরত্বে পোল্ট্রি খামার স্থাপনের নিয়ম থাকলেও, এই নিয়ম উপেক্ষা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, দর্শনীয় স্থান (কবি নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র) এবং আবাসিক এলাকায় খামারটি পরিচালিত হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও প্রাণিসম্পদ অফিসের অনুমোদন ছাড়াই গড়ে ওঠা এই খামার থেকে প্রতিনিয়ত বিষাক্ত বর্জ্য নির্গত হচ্ছে, যা আশপাশের পানির উৎসকে দূষিত করছে।


স্থানীয়দেও অভিযোগ, প্রায় ৪-৫ বছর যাবত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এনায়েত করিম আরিফ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনটি শেডের মুরগির খামার স্থাপন করে অদ্যবধি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।। বর্তমানে সেখানে প্রায় ১০,০০০ মুরগি রয়েছে। তবে, নির্দিষ্ট জায়গায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা না থাকায় খামারের ময়লা আশপাশের পুকুর ও জমিতে ফেলা হচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খামারটির দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র যে বাসা বাড়ির জানালা-দরজা খুলে রাখা যায় না। বাইরে বের হলেই দুর্গন্ধের কারণে ধম বন্ধ হয়ে বমির অনুভূতি হয়। শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগের প্রকোপ বেড়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমার বাড়ি ও জমির পাশে এই খামার গড়ে ওঠার পর থেকেই আমি চরম দুর্ভোগে আছি। খামারের ময়লা পানি ও বর্জ্য আমার জমিতে ফেলায় আমার ৩০০টিরও বেশি বিভিন্ন প্রজাতি গাছ মরে গেছে। এমনকি ফসলি জমিতে কোনো চাষাবাদ করাও সম্ভব হচ্ছে না। আগেও পৌর প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছি, কিন্তু কোনো সমাধান পাইনি। এবারও এলাকাবাসী মিলে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছি, আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের শিক্ষা জীবনের স্মৃতিবিজড়িত বিচুতিয়া ব্যাপারি বাড়ির হাফেজ মো. আবুল কাশেম বলেন, “মুরগির বিষ্ঠার দুর্গন্ধে আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। বাতাসে ভাসমান দুর্গন্ধের কারণে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, খাওয়ার রুচি চলে যায়। পুকুর ও খালের পানি পচে দূগন্ধ ছড়াচ্ছে, মশা-মাছির উৎপাত বেড়েছে। আমরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছি।”
খামার মালিক এনায়েত করিম আরিফ বলেন,“আমি আমার নির্দিষ্ট জায়গায়ই বর্জ্য ফেলছি। পাশের কালভার্টটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে, তাই একটু দূগন্ধ ছড়াচ্ছে।
ত্রিশাল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নাজনিন সুলতানা বলেন, খামারটি প্রাণিসম্পদ অফিসের রেজিস্ট্রেশনভুক্ত নয়। রেজিস্ট্রেশনের জন্য নোটিশ পাঠানো হলেও তারা এখনো তা করেনি। ইতোমধ্যে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।
ময়মনসিংহ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাজিয়া উদ্দিন বলেন,নীতিমালা অনুযায়ী, পোল্ট্রি খামারের জন্য বায়োগ্যাস প্লান্ট অথবা কম্পোস্টিং প্লান্ট থাকা বাধ্যতামূলক। নীতিমালা লঙ্ঘন করে যারা পরিবেশ দূষণ করছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারি বলেন,আমি সম্প্রতি যোগদান করেছি, এখনো এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।##

মতিউল আলম

প্রধান সম্পাদকঃ
মতিউল আলম

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মাকসুদা আক্তার