
You must need to login..!
Description
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
২০১৬ সালে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ নিয়ে সোহাগী ইউনিয়নের সোহাগী এলাকায় মারামারির ঘটনায় আনোয়ার হোসেন নামে একজন নিহত হন। এঘটনায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে ৭ জুলাই ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার আসামিরা মামলাটি মিমাংসার জন্য চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে অপর একটি কাউন্টার মামলা সাঁজাতে আরেকটি হত্যা মামলার পরিকল্পনা করে। ওই পরিকল্পনায় বলি হয় আনেছা খাতুন (৭৫) নামের এক বৃদ্ধা। ওই ঘটনায় নিহতের ছেলে পাঞ্জু মিয়া বাদি হয়ে বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ সহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ৬ নভেম্বর একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আনোয়ার হত্যা মামলার আসামিদের ধারণা বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ’র কারণেই ওই মামলাটি মিমাংসা হচ্ছে না। আনেছা খাতুন হত্যা মামলায় পিবিআই তদন্তে উঠে আসে লোমহর্ষক ঘটনা। উক্ত মামলার আসামিরা নির্দোষ হয়ে মামলার সাক্ষী সহ নিহতের স্বজনরাই অভিযুক্ত হন।
পিবিআই তদন্ত প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০১৬ সালে আনোয়ার হত্যা মামলার আসামী ইসলাম উদ্দিন, নজরুল ইসলাম, আবু সিদ্দিক, খলিল, সাইফুল, রইচ, তমিজ উদ্দিন, স্বপন ও যুবলীগ নেতা সালাম মেম্বার পরপর তিনটি গোপন বৈঠক করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী মামলার সাক্ষী নজরুল ইসলাম আনেছা খাতুনকে বয়স্ক ভাতার কথা বলে নারায়নগঞ্জ থেকে বাড়ীতে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে সালাম মেম্বার আনেছা খাতুনকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। হত্যা বাস্তবায়নের জন্য এলাকায় “গাজী কালুর কিচ্ছা”র আয়োজন করে। মসজিদ কমিটি লোকজন বাঁধা দেয়ায় এলাকায় কিচ্ছার আয়োজন পন্ড হলে সেদিনের মতো আনিছা খাতুন বেঁচে যান। পরবর্তীতে একটি বিবাহ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আনিছাকে হত্যার পরিকল্পনা করে তা বাস্তবায়ন করে।
এদিকে পিবিআই তদন্তে পাঞ্জু মিয়ার বোন জামাই ইসলাম উদ্দিন অভিযুক্ত হয়ে পড়লে তাকে বাঁচাতে পাঞ্জু মিয়া বাদী হয়ে সাক্ষী নজরুল ইসলাম, স্বপন মিয়া ও রইস মিয়াকে আসামি করে আদালতে আনিছা হত্যায় আরেকটি মামলা করেন। এ মামলায় উল্লেখ করা হয় ইসলাম উদ্দিন ও আঃ সালামের কথায় ১৫জনের নামে পূর্বের মামলাটি করেছেন।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, পিবিআই তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধেও সাক্ষী থেকে আসামি হওয়া নজরুল ইসলাম মামলার বাদীকে দিয়ে আদালতে নারাজি দেন। অপরদিকে বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহকে ফাঁসাতে না পেরে নজরুল ও তার লোকজন পাঞ্জু মিয়াকেও হত্যার পরিকল্পনা করেছে বলে এলাকায় গুজব রটে। এ খবর পেয়ে আব্দুল্লাহর লোকজন নজরুলের কবল থেকে উদ্ধার করতে পাঞ্জু মিয়াকে খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে পাঞ্জু মিয়াকে সোহাগী গ্রামের সবুজের চায়ের দোকানে তার মায়ের হত্যায় অভিযুক্ত নজরুলের সাথে বসে থাকতে দেখে। সেখান থেকে পাঞ্জু মিয়াকে উদ্ধার করতে গেলে নজরুলদের সাথে আব্দুল্লাহর লোকজনের মারামারি হয়। এতে উভয় পক্ষের মারামারিতে পাঞ্জু মিয়াও আহত হন। পরে আহত পাঞ্জু মিয়াকে আব্দুল্লাহর চাচাতো ভাই আজিজুল হক চিকিৎসার জন্যে হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসা শেষে পাঞ্জু মিয়া আজিজুল হকের কাছে আশ্রয় চাইলে তিনি তার বাড়িতে নিয়ে যান এবং তাকে আশ্রয় দেন। ওই অবস্থায় হঠাৎ একদিন যুবলীগ নেতা সালাম ও কাদিরকে সঙ্গে নিয়ে ডিবিপুলিশের লোকজন বাড়ির সামনের রাস্তা থেকে পাঞ্জু মিয়াকে তুলে নিয়ে আসে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আশ্রয় দাতা আজিজুল হক ও আব্দুল্লাহ সহ ১৯জনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেছেন পাঞ্জু মিয়ার স্ত্রী নাসিমা বেগম।
সোহাগী এলাকার পাঞ্জু মিয়ার বাড়ির পাশের চা-দোকানদার রবিকুল ইসলাম বলেন, পাঞ্জু মিয়া প্রায় সময় একা একা তার দোকানে চা খেতে এসেছেন। পাঞ্জু মিয়ার ঘর দরজা ভাঙা থাকায় আজিজুলের বাড়িতে থাকেন। সেটাই তিনি জানেন। এখন শুনছেন তাকে নাকি অপহরণ করা হয়েছে।
পাঞ্জু মিয়ার পাশের ঘরের আব্দুল মালেক বলেন, পাঞ্জু মিয়াকে নিয়ে দুই পক্ষের মারামারির কথা শুনেছেন।
প্রতিবেশী মাতাব উদ্দিন বলেন, আনোয়ার হত্যা মামলার আসামীরা তাদের হত্যা মামলার বিচার পক্রিয়ায় বাধাগ্রস্ত করতেই ওই অপহরণ মামলার নাটক সাজিয়েছে। যে লোক প্রকাশ্য এলাকা ঘুরে বেড়িয়েছে সেই অপহরণ হয় কীভাবে। ডিবি পুলিশ আসার আগে পাঞ্জু একদিনও অপহরণের কথা কাউকে বলে নি।
ঘটনাটি জানতে এ প্রতিবেদক সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা হাটখোলা এলাকায় বাদি নাসিমা বেগমের ভাড়াটিয়া বাসায় গেলে তার সাথে কথা হয়। মামলায় ১৯জন আসামীর মধ্যে তিনজনের নাম বলতে পারলেও ওই সময় আব্দুল্লাহকে বাদি ছিনতে পারেননি। ওই সময় নাসিমা বলেন, অন্য লোকজনের কাছে শোনে তিনি মামলায় আসামীর নামগুলো দিয়েছেন। তবে তার স্বামী ছিনলেও ছিনতে পারেন। তার স্বামীকে মেরে দাত ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। যারা তার স্বামীকে মেরে আহত করেছে তিনি তাদের শাস্তি চান।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকার বাতির মোড়ে চলন্ত রিকশায় দেখা হয় ভিকটিম পাঞ্জু মিয়ার সাথে। রিকশা থামিয়ে অপহরনের কথা জিজ্ঞেস করলেই তিনি চুপসে যান। কয়েক মিনিট নিরব থাকার পর বলেন আমি বুড়া মানুষ মামলা-টামলা নিয়ে কিছু বলতে পারবনা আমার নিষেধ আছে। আমাকে মাফ করবেন।
আব্দুল্লাহ বলেন, আমি ছাত্র জীবন থেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। ছাত্র দল করেছি যুবদল করেছি। বর্তমানে বিএনপির সাথে আছি। আমি তিনবার চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেছি। প্রতিবারই জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমার বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে পালিয়ে যাওয়া সরকারের লোকজন। আমার এই জনপ্রিয়তার কারণেই আওমীলীগ যুবলীগের একটি কুচক্রী মহল আমাকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। সর্বশেষ এই অপহরণ মামলার আসামী হয়েছি।
পাঞ্জুকে আশ্রয় দাতা আজিজুল হক বলেন, আহত পাঞ্জুকে চিকিৎসা করিয়ে সরল মনে আশ্রয় দেওয়াই আমার এখন কাল হয়েছে। আমি এখন অপরণ মামলার আসামী।
এবিষয়ে অপহরণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তোয়াবুল জানান, মামলার তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে। ##