ত্রিশালে শেখ হাসিনার লোগোযুক্ত ওএমএসের ১৫ বস্তা চাল আটক, প্রশাসনের নিরবতা নিয়ে প্রশ্ন

image

You must need to login..!

Description

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ত্রিশালে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ওএমএসের ১৫ বস্তা চাল অবৈধভাবে সরানোর সময় স্থানীয় জনতা তা আটক করে। প্রায় দুই ঘণ্টা চাল আটক থাকার পর প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় অবৈধ চক্র চাল নিয়ে যায়।

চাল আটক ও প্রশাসনের নিরবতা জানা যায়, মঙ্গলবার থেকে ত্রিশাল উপজেলায় ২৩টি পয়েন্টে ২৪,৫৩৯ উপকারভোগীর জন্য ৬৭৬ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১০টি পয়েন্টে ১৫ টাকা মূল্যে চাল বিক্রি শুরু হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে ত্রিশাল পৌরসভার কেরানী বাড়ির মোড়ে স্থানীয় এলাকাবাসী সরকার নির্ধারিত বস্তাবন্দি ১৬ বস্তা চালসহ একটি ভ্যান আটক করে। ভ্যানচালকের দাবি, তিনি ত্রিশাল ইউনিয়নের পাঁচপাড়া চাল বিতরণ কেন্দ্র থেকে স্থানীয় কালোবাজারি আবুল হোসেনের জন্য চাল সংগ্রহ করেন।

এ ঘটনায় স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে জানান। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি। পরে আবুল হোসেন প্রভাব খাটিয়ে ও স্থানীয়দের হুমকি দিয়ে চাল তার গুদামে নিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভ্যানে থাকা বস্তাগুলোর গায়ে “শেখ হাসিনার বাংলাদেশ: ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ” লেখা ছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তারা ভ্যান আটক করেন। ভ্যানচালক জানান, এই চাল স্থানীয় কালোবাজারি আবুল হোসেনের গুদামে যাচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের কেউ ঘটনাস্থলে না আসায় আবুল প্রভাব খাটিয়ে চাল নিয়ে চলে যায়। স্থানীয়দের দাবি, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার যোগসাজশেই এই দুর্নীতি ও কালোবাজারি কার্যক্রম চলছে।

উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ইলিয়াস আহমেদ জানান, তিনি সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শককেঘটনাস্থলে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তবে স্থানীয়রা জানায়, কোনো কর্মকর্তা সেখানে আসেননি। শেখ হাসিনারলোগোযুক্ত বস্তার বিষয়ে তিনি জানান, ওসিএলএসডিকে (অফিসার ইন চার্জ, লোকালসাপ্লাই ডিপো) বিষয়টি দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডিলার ও প্রশাসনের ভূমিকা  ত্রিশালের খাদ্যগুদামের দায়িত্বে থাকা দেবব্রত বিশ্বাস বলেন, “শেখ হাসিনারলোগোযুক্ত কোনো বস্তা আমার গুদাম থেকে যায়নি। প্রতিটি বস্তার লোগো নিজ হাতে মুছে দিয়েছি।“ তবে বাস্তবে দেখা গেছে, প্রতিটি ডিলারের দোকানে এমন লোগোযুক্ত বস্তা পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে, দেবব্রত বিশ্বাস সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য এক ব্যক্তির মাধ্যমে প্রতিবেদককে ফোন করিয়ে দেখা করতে বলেন, যা সাংবাদিকতার নীতিবিরুদ্ধ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, তিনি খাদ্য কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে খাদ্য কর্মকর্তাকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনারলোগোযুক্ত বস্তাগুলো পুরাতন, তাই এগুলোর গায়ে লেখা মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যদি তা না করা হয়ে থাকে, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।“

সাধারণ মানুষের প্রশ্ন   ত্রিশালেওএমএসের চাল বিতরণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জনসাধারণের দাবি, এ ধরনের অনিয়ম ও কালোবাজারি বন্ধে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে প্রকৃত উপকারভোগীরা সরকারের এই খাদ্য সহায়তার সুফল পান।

প্রধান সম্পাদকঃ
মতিউল আলম

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মাকসুদা আক্তার