স্বাক্ষর জাল করে বিদ্যালয় মেরামতের ১০ লক্ষ টাকা আত্মসাত অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

স্বাক্ষর জাল করে বিদ্যালয় মেরামতের ১০ লক্ষ টাকা আত্মসাত অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

BMTV Desk No Comments

স্টাফ রিপোর্টার, বিএমটিভি নিউজঃ

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় দূর্নীতির অভিযোগে কুশমাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মূর্শিদা বেগমের নামে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। মূর্শিদা বেগমের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে টাকা আত্মসাত, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে মিটিং ছাড়াই ভুয়া রেজুলেশন তৈরি করে বিল উত্তোলনসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুনীর্তির অভিযোগে বিভাগীয় মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল্লাহ।

গত ১২ ফেব্রুয়ারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ও অভিভাবক হেলাল উদ্দিন অনিয়ম, দূর্নীতির বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, ময়মনসিংহ উপ-পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পর চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। দীর্ঘ ৬ মাসের তদন্তে প্রধান শিক্ষক মূর্শিদা বেগমের বিরুদ্ধে সত্যতা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়।

অভিযোগে উল্লেখ্য করা হয়, প্রধান শিক্ষক মূর্শিদা বেগম যোগদানের পর থেকে বিদ্যালয়ে নিয়মিত অনুউপস্থিত, লেখাপড়ার মান এতটাই খারাপ যে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে প্রথম শ্রেণী হতে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ৬০-৭০ জন, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে অসদাচরণ, তিনি বিদ্যালয়ে যোগদানের পর ২০১৮ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়ে উন্নয়ন জন্য স্লিপ, ক্ষুদ্র মেরামতের ১০ লক্ষ টাকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সহযোগীয় সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে টাকা আত্বসাত, প্রতিষ্ঠানের ল্যাপটপ ও রাউটার নিজ বাসায় ব্যবহার করে আসছেন। এসব ঘটনা জানাজানি হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ও অভিভাবক হেলাল উদ্দিন প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এলাকাবাসীকে নিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ফারানাজ পাঠান হঠাৎ বিদ্যালয় পরিদর্শনে গেলে প্রধান শিক্ষক মূর্শিদা বেগমের কক্ষে ডোকে দরজা বন্ধ করে আলোচনা করে চলে যায়। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহী দিলসাদ এ্যালিন যোগদান করার পর এখনো এই বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে যায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ্য করা হয়।

‎এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মূর্শিদা বেগম বলেন, আমার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ সঠিক নয়। তাছাড়া এসব মামলায় আমার কিছুই হবে না বলে দাবি করেন তিনি।

‎এ বিষয়ে ফুলবাড়িয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহী দিলসাদ এলিন বলেন, মূর্শিদা বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগের পর চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। তদন্ত কর্মকর্তারা তদন্তে সত্যতা পেয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রতিবেদন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জমা দেয়া হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন। তবে মামলা হয়েছে কিনা এমন কোন চিঠি এখনো হাতে পাইনি। হয়তো অফিস খোলা হলে চিঠি পাব।

এবিষয়ে জানতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল্লাহ’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তদন্তে মূর্শিদা বেগমের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় গত ১ জুন কুশমাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালের প্রধান শিক্ষক মূর্শিদা বেগমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। মামলার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এনায়েতুর রহমান