বিএমটিভি নিউজ ডেস্ক
ভারতের গুজরাট রাজ্যে বিমান দুর্ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরলেন বিধ্বস্ত বিমানের এক যাত্রী। তার নাম বিশ্বাস কুমার রমেশ। তিনি ভারত সফর শেষে লন্ডন ফিরছিলেন। সঙ্গে তার ভাইও ছিলেন।
আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট AI171 দুর্ঘটনার একমাত্র জীবিত ব্যক্তি, যে দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যেই ২৬৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। দুর্ঘটনার পরে তীব্র আগুনের হাত থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন বিশ্বাস কুমার রমেশ। হাসপাতালের বেডে শুয়ে বর্ণনা করলেন সে কথা। এই বৃটিশ নাগরিক বিমানের বাম দিকে জরুরি দরজার পাশে ১১এ-সিটে বসেছিলেন । আহমেদাবাদ সিভিল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডাক্তারদের তিনি বলেন, উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই বিমানটি ভেঙে যায় এবং তার আসনটি ছিটকে বেরিয়ে আসে। ফলস্বরূপ, বিমানের বাকি অংশে ছড়িয়ে পড়া আগুন থেকে তিনি রক্ষা পান। রমেশ ডাক্তারদের জানান যে তিনি বিমান থেকে লাফ দেননি বরং বিমানটি ভেঙে পড়ার সময় সিটের সাথে বেল্ট বেঁধে থাকা অবস্থায় ছিটকে পড়েন । রমেশ ডিডি নিউজকে জানিয়েছেন – আমি যেখানে অবতরণ করেছিলাম সেই জায়গাটি নিচু ছিল আমি মাটির কাছাকাছি ছিলাম। সিট বেল্ট খুলে ফেলে কোনোরকমে বিমান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করি। হাসপাতাল থেকেই রমেশ বলেছেন, বিমান ওড়ার মাত্র ৩০ সেকেন্ড পর একটা প্রচণ্ড শব্দ শুনতে পেয়েছিলাম। তার পরেই বিমানটি ভেঙে পড়ে। সব কিছু খুব দ্রুত ঘটে গিয়েছিল। তিনি আরও বলেছেন, আমি যখন উঠে দাঁড়াই, আমার চারপাশে শুধু লাশ আর লাশ। খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। উঠেই আমি দৌড়োতে শুরু করি। আমার চারপাশে বিমানের অনেক টুকরো দেখতে পেয়েছিলাম। তার পর কেউ আমাকে টেনে ধরে অ্যাম্বুল্যান্সে তুলল। আমি হাসপাতালে চলে এলাম। ঘটনার ভয়াবহতার পর এখনো তাঁর বিশ্বাস হচ্ছে না তিনি বেঁচে আছেন। বলছেন – আমি ভেবেছিলাম আমিও বুঝি মারা যাব। আমার চোখের সামনেই একের পর এক মানুষ মারা গেল। বর্তমানে ট্রমা ওয়ার্ডে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এই বৃটিশ নাগরিককে। ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলছে। শেষ গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে কী ঘটেছিল তা বোঝার জন্য বিমানের ব্ল্যাক বক্স – ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার এবং ককপিট ভয়েস রেকর্ডার-এর অনুসন্ধানও চলছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। যিনি ওই বিমানের যাত্রী ছিলেন। তার আসন ক্রম ১১এ। তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত বৃটিশ নাগরিক। ঘটনার পর প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায় আহত ওই যাত্রী হাঁটছেন। তার পরনের সাদা ট্রাউজার ও গেঞ্জিতে ময়লা লাগানো। শরীরের বিভিন্ন স্থান রক্তাক্ত। আহত এই যাত্রীর চিকিৎসা চলছে হাসপাতালে। সেখানে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম তার সঙ্গে কথা বলেন। আহত ওই যাত্রী জানান, প্লেনটি উড্ডয়নের ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই নিচে নামতে শুরু করে। বিকট শব্দের পর এটি ভেঙে পড়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এর আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি দাবি করেছিল, বিমান দুর্ঘটনায় এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারের কোনো আরোহী বেঁচে নেই। বিমানটিতে মোট ২৪২ জন আরোহী ছিলেন। স্থানীয় পুলিশপ্রধান জিএস মালিকও জানিয়েছিলেন, উড়োজাহাজটিতে থাকা কোনো যাত্রীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই। বার্তা সংস্থা এপির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। জিএস মালিক জানান, আবাসিক এলাকায় উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হওয়ায় কিছু স্থানীয় বাসিন্দারও মৃত্যু হতে পারে। তবে সব আরোহীর মৃত্যুর ব্যাপারে এখনো বিস্তারিত বা আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে আহমেদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল বিমানবন্দর থেকে বিমানটি যুক্তরাজ্যের লন্ডনের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে। এর কিছুক্ষণ পরই এটি আছড়ে পড়ে। বিমানটিতে ২৩২ জন সাধারণ যাত্রী এবং ১০ জন ক্রু ছিলেন। এর মধ্যে ১৬৯ জন ভারতীয়, ৫৩ জন বৃটিশ, ৭ জন পর্তুগিজ এবং একজন কানাডিয়ান ছিলেন।