ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি-
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মোমিনুর রহমান মোমিন (৩৬) নামে এক ব্যবসায়ীকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিষ্ফোরক মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে আটকের অভিযোগ উঠেছে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসির বিরুদ্ধে। এনিয়ে মোমিনের বাবা লুৎফর রহমান ময়মনসিংহ রেঞ্জের উপ-মহা পুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) বরাবর থানার ওসি ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ভুক্তভোগী মোমিনুর রহমান উপজেলার তারুন্দিয়া ইউনিয়নের চর-জিথর গ্রামের বাসিন্দা। এমন ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক দলের মাঝে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
মোমিনের বাবা লুৎফুর রহমান জানান, তার ছেলে ঢাকা জেলার পল্টন থানা এলাকায় গার্মেন্টস আইটেম সাবলিমেশন পেপার বিক্রয়ের ব্যবসা করেন। সেই সুবাদে একই উপজেলার গাবরবোয়ালী গ্রামের আলী নেওয়াজের ছেলে হাসানুজ্জামান টুটুলের নিকট থেকে ১২লক্ষ ৪২ হাজার ৬৫০টাকার সাবলিমেশন পেপার ক্রয় করেন। যার মধ্যে মোমিন ৪ লক্ষ টাকা পরিশোধ করে এবং ৮ লক্ষ ৪২ হাজার ৬৫০ টাকা বাকি থাকে। ক্রয়কৃত সাবলিমেশন পেপারের পুরুত্ব ও মাপে কম থাকায় হাসানুজ্জামান টুটুলকে বিষয়টি জানায় মোমিন।
এই বিষয়ে উভয়পক্ষই একসাথে বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তা না করে টুটুল তার পাওনা টাকা ফেরত চেয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দিতে থাকে। এরই প্রেক্ষিতে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে লুৎফুর রহমানের ভাতিজা চরজিথর স্কুল এন্ড কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মেজবাহ উদ্দিন (৬৬)-কে ময়মনসিংহের বহ্মপুত্র ব্রীজের সামনে পেয়ে হাসানুজ্জামান টুটুলসহ তার লোকজন মারপিট করে গুরুতর জখম করে। তবুও আপোষ মিমাংসার স্বার্থে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়নি বলে জানিয়েছেন মোমিনের বাবা। কিন্তু সরলতার সুযোগে পরবর্তীতে হাসানুজ্জামান টুটুল বাদী হয়ে তার ছেলেসহ তাদের পরিবারের অন্যান্য লোকজনের বিরুদ্ধে গৌরীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। ওই দায়ের করা মামলায় তার ছেলে মোমিন বিজ্ঞ আদালতে জামিনের জন্য গেলে বিজ্ঞ আদালত তাহার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
রাজনৈতিক মামলার শোন অ্যারেস্ট দেখানো প্রসঙ্গে মোমিনের বাবা জানান, তার ছেলে মমিনুর রহমান ২০১০ সাল থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতি ছেড়ে ঢাকায় গিয়ে ব্যবসা শুরু করে। মোমিন ২০১০ সালের পর থেকে কোন রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে জড়িত না থাকা সত্ত্বেও অজ্ঞাত কারনে ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওবায়দুর রহমানের নির্দেশে রাজনৈতিক মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখায়। তাই এবিষয়ে তদন্ত পূর্বক ঈশ্বরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ ওবায়দুর রহমান এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ডিআইজি বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং এঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবী জানান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা বিএনপি’র একাধিক নেতা বলেন, ছেলেটি একটি ব্যাবসায়ী লেনদেনের মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে আটক হয়েছে। এদিকে তার প্রতিপক্ষ থানার ওসির সাথে মোটা অংকের টাকা লেনদেন করে আরেকটি বিস্ফোরক মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখিয়েছে। এটা শুধু শুধু একজন মানুষ ও একটি পরিবারকে হয়রানি ছাড়া আর কিছু না। তবে এঘটনায় প্রমান করে নিরিহ মানুষ এই ওসির কাছে নিরাপদ নয়। তাই তাকে অপসারণ করার দাবি জানাচ্ছি।
এবিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, মোমিন ছেলেটি আরেকটি মামলার হাজিরা দিতে গিয়ে আটক হয়েছে। পরবর্তীতে সে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ করায় তাকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় সন্দিগ্ধ আসামী হিসাবে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য বিজ্ঞ আদালতে আবেদন দাখিল করেছি। আদালত শুনানি শেষে তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে পুনরায় জেল হাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।