স্টাফ রিপোর্টার, বিএমটিভি নিউজঃ
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স আজ বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে এবছর এসএসসি ও সমমানের পরিক্ষায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করে বলেছেন , এবছর প্রকৃত অর্থেই পড়ালেখা করে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়েছে । ফ্যসিবাদী আওয়ামী আমলের মতো গণহারে নাম্বার বা জিপিএ ৫ বা গণ পাশের নির্দেশনা ছিলো না বলে হয়ত পাশের হার কম , তবে এবার শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা মুল্যায়িত হয়েছে । রাজনৈতিক কারণে গণহারে নাম্বার ও জিপিএ ৫ সহ পাশের হার বেশী দেখিয়ে কৃতিত্ব নেয়ার প্রবণতা বিগত ফ্যসিবাদী আওয়ামী আমলে ছিল । সেকারণে সামগ্রিকভাবে মেধার অবমূল্যায়ন হয়েছিল।
হালুয়াঘাট উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আড়ম্বড়পূর্ণ এই মেধা সংবর্ধনার অয়োজন করা হয় । হালুয়াঘাট বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান শাহ্ আফাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলী নূর খান । অনুপ্রেরণা মুলক বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহ হেল মাজেদ বাবু । এছাড়াও বিশিস্ট শিক্ষবিদ জ্ঞোতিষ চন্দ্র সরকার , হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুল ইসলাম , সহকারী কমিশনার ( ভূমি ) জান্নাত , উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আসলাম মিয়া বাবুল , পৌর বিএনপির আহবায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহ , জামায়াতে ইসলামী হালুয়াঘাট এর আমীর মোয়াজ্জেম হোসেন মাস্টার , হালুয়াঘাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রবীর সরকার , ধুরাইল আলীম মাদ্রাসার সুপারেন্টেন্ডেন্ট মজিবুর সরকার , সাংবাদিক হাতেম আলী , জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী আফরিনা খানম রিনভী , রিদুয়ান ইসলাম, অভিভাবক সাইফুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন । স্বাগত বক্তব্য রাখেন আবু হাসনাত বদরুল কবীর , ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন নাঈমুর আরেফিন পাপন ।
অনুষ্ঠানে হালুয়াঘাটের প্রশাসনিক কর্মকর্তা , বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নেতৃবৃন্দ , বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষকবৃন্দ , কৃতি শিক্ষর্থীদের অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন । এমরান সালেহ প্রিন্স কৃতি শিক্ষর্থীদের ক্রেস্ট ,বই , অর্থ প্রদান করেন । মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় ।
অনুষ্ঠানে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন , আওয়ামী লীগের আমলে সস্তা জিপিএ-কেন্দ্রিক স্কুলশিক্ষার মাধ্যমে জাতিকে ভেতর থেকে ধ্বংসের আয়োজন করা হয় । গণহারে নম্বর দেওয়া, জিপিএ–৫–এর বাম্পার ফলন ও গণপাসের প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষা খাতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। শিক্ষাকে ক্লাসরুম থেকে উঠিয়ে দেয়া হয়েছিল , । অতিমাত্রায় রাজনীতি ও বাণিজ্যিকরণ ও দিবস কেন্দ্রিক করা হয়েছিল । গত ১৫ বছর আওয়ামী স্বৈরাচার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। হাজার হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে। এর মাশুল দিচ্ছে আমাদের সন্তানেরা। আওয়ামী লীগ শিক্ষা কারিকুলামে নীতি আদর্শহীন, অনৈতিক ও মেধাহীন শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিল । আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা দখলের পর থেকেই শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, প্রশ্ন ফাঁস ও পরীক্ষায় নকলের সুযোগ করে দিয়েছে। একটি দেশের শিক্ষাক্রম অনুকরণ করে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। গোটা জাতির মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দেয়ার অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই শিক্ষা কারিকুলাম চালু করা হয়েছে। এই কারিকুলাম একমুখী শিক্ষা হওয়ার ফলে বহুমুখী শিক্ষা হারিয়ে যাচ্ছে। যে সরকারের আমলে খাতায় না লিখেও পাশ করিয়ে দেয়া হয়, সেই সরকারের নীতিতে শিক্ষার গুণগত মান কখনোই উন্নত হবে না। অথচ বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে প্রশ্ন ফাঁস ও নকল বন্ধ করে শিক্ষা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এনেছিলেন।
শিক্ষার নামে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি করা হয়েছে। ভাবতে কষ্ট হয়,আমার দেশের ছেলে-মেয়েদের বই তৈরি হতো পার্শ্ববর্তী দেশে। গুণগত শিক্ষা না পেলে সেই শিক্ষার কোনো মূল্য নেই। এখন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরাও ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাচ্ছে না। তাহলে এই শিক্ষার মূল্য কী? সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের সুযোগ না পেলে পুঁথিগত বিদ্যা দিয়ে প্রকৃত জ্ঞান অর্জন সম্ভব নয়। তারা দেশের ছেলে-মেয়েদের গর্বের সাথে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দেয়নি।
তিনি বলেন , শ্রেণিশিক্ষাকে, পরীক্ষার প্রশ্নকে ও উত্তরপত্র মূল্যায়নকে যেকোনো মূল্যে মানে ফেরাতে হবে। শিক্ষায় মানসম্পন্ন পরিবর্তন আনতে হবে , গণমুখী ও বাস্তবমুখী করতে হবে । তিনি বলেন , জাতিকে ভেতর থেকে ধ্বংসের যেসব আয়োজন করা হয়েছিল , সেগুলোর সংস্কারে দ্রুত হাত দিতে হবে। কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন “ তোমরই জাতির ভবিষ্যৎ । তোমাদের দিকে হলুয়াঘাটবাসী তাকিয়ে আছে । তোমাদের সাফল্য হলুয়াঘাটবাসীর গর্ব । আলোকিত হালুয়াঘাট গড়তে আলোকিত মানুষ চাই । তোমরই অলোকিত মানুষ হিসেবে নিজেদেরকে গড়ে তোলো । শুধু শিক্ষা নয় , মানবিকতা, সততা , নিষ্ঠা , ধর্ম , সংস্কৃতি, আলোয় আলোকিত হতে হবে । নির্ভেজল খাঁটি দেশপ্রেমিক হতে হবে । সবার ওপরে বাংলাদেশকে ঠাঁই দিতে হবে । স্বাধীনতা ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণ অভ্যুত্থানের আকাঙক্ষা এবং নিজের ইতিহাস , ঐতিহ্যে ধারণ করতে হবে ।মেধা ও মননে নিজেদেরকে জগ্রত করতে হবে । ঘুষ , দুর্নীতি , মাদক, সন্ত্রাসকে ঘৃণা করতে হবে । অন্যায় ,অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মুখর থাকতে হবে ।” তিনি বলেন , ইনশাআল্লাহ জনগণের নির্বাচিত আগামী বিএনপির সরকার শিক্ষবিদসহ অভিজ্ঞাসম্পন্ন দেশি বিদেশী ব্যক্তিত্বদের মতামত নিয়ে গণমূখী জীবন নির্ভর বাস্তবমুখী শিক্ষা নীতি প্রবর্তন করা হবে ।