স্টাফ রিপোর্টার, বিএমটিভি নিউজঃ
গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মরহুম নাজমুল হকের গ্রামের বাড়িতে শুক্রবার ভোরে আগুন দিয়ে বাড়ির রান্নাঘর ২টি ঘরের ৫টি রুম পুড়িয়ে দিয়েছে দুস্কৃতিকারিরা। এতে ঘরের আসবাবপত্র, অনেক স্মৃতিময় মুল্যবান কাগজপত্রসহ ঘরগুলো পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ধারনা করা হচ্ছে আগুনে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মরহুম বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. নাজমুল হকের ছোট ছেলে এ্যাডভোকেট নাদিমুল হক নাদিম জানান, তারা কেউ বাড়িতে ছিল না। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অজ্ঞাত দুস্কৃতিকারিরা আনুমানিক ভোর ৪টার দিকে তালাবন্ধ ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। বড় কষ্ট হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপির নেতা বাবার স্মৃতি চিহ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। যে স্মৃতি পুড়ে কোটি টাকা দিয়ে তার পূরণ হবে না। পরিবারের কেউ বাড়িতে ছিল না যার ফলে কেউ হতাহত হয়নি।
খবর পেয়ে ২ছেলে বড় ছেলে সিনিয়র সহকারী কশিনার (ভূমি) নাহিদুল হক ও এ্যাডভোকেট নাদিমুল হক দুপুরে বাড়িতে আসে। আগুনে পোড়া দেখে দুই ভাই কষ্টে স্তব্ধ হয়ে যান। তাদের বাবা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার প্রয়াত নাজমুল হকের সর্বশেষ স্মৃতিটুকু নষ্ট হয়ে গেল। যশরা ইউনিয়নের ভারইল গ্রামের মো. সিরাজুল ইসলাম (স্বপন) জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৪টার দিকে মরহুম বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. নাজমুল হকের বাড়িতে আগুনের সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে ৯৯৯ কল দেওয়ার পর গফরগাঁও থেকে ফায়ার সার্ভিস গাড়ী আসে।
গফরগাঁও ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের সাব-অফিসার মো. আনোয়ার হোসেন জানান, শুক্রবার ভোর ৫টা ২৭মিঃ গাড়ী নিয়ে বের হয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সকাল ৬টা ১০মিঃ দিকে আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে। পরে তালা কেটে ঘরে প্রবেশ করে করি। প্রতিটি রুমের সব মালামাল আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বাড়িতে লোকজন না থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমান জানা যায়নি। তবে তদন্তের পরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান জানা যাবে।
স্থানীয়রা বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এঘটনা ঘটতে পারে। নিরপেক্ষ তদন্ত করলে ঘটনার কারণ উদঘাটন হতে পারে ।
গফরগাঁও থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মো. বাচ্চু মিয়া জানান, ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, বিএনপির চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৭সালের ২৯শে এপ্রিলে গফরগাঁওয়ে সমাবেশ শেষে তৎকালীন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মরহুম নাজমুল হকের গ্রামের বাড়িতে এসে বিশ্রাম নিয়ে সময় কাটান।## মতিউল আলম