ফুলবাড়িয়ার লাল চিনি  জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি

ফুলবাড়িয়ার লাল চিনি  জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি

BMTV Desk No Comments

স্টাফ রিপোর্টার, বিএমটিভি নিউজঃ
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার লাল চিনি  জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেল।  আখের রস থেকে হাতে তৈরি ঐতিহ্যবাহী লাল চিনি জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে আখের রস থেকে তৈরি এই চিনি একটি বিশেষ ও ঔষধি গুণসম্পন্ন খাদ্যপণ্যে পরিণত করেছে। এই প্রক্রিয়ায় তৈরি চিনিতে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রণ এবং ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান পাওয়া যায়।জিআই স্বীকৃতি পাওয়ায় ফুলবাড়িয়ার লাল চিনি বিশেষ ভৌগোলিক পণ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়। এতে কোনো রাসায়নিক উপাদান না থাকায় এর পুষ্টিগুণ অনেক বেশি এবং খেতে সুস্বাদু। জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় স্থানীয় কৃষক এবং উৎপাদকরা লাভবান হবেন। এতে করে পণ্যটির দেশ-বিদেশে বাজারজাতকরণ সহজ হবে বলছেন উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা।
ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পাহাড়ি লাল মাটি-অধ্যুষিত কালাদহ, এনায়েতপুর, রাঙামাটিয়া, নাওগাঁও, বাকতা ও রাধাকানাই ইউনিয়নে প্রচুর পরিমাণ আখ আবাদ করা হয়।কৃষকরা জানান, লাল চিনি মাড়াই মৌসুম শুরু হয় অগ্রহায়ণ মাসে, কার্যক্রম চলে চৈত্র মাস পর্যন্ত। মাড়াই মৌসুমে ওই এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। এটি আখের রস থেকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। উৎপাদন প্রক্রিয়ার ভিন্নতার কারণে এর রং লাল হয় এবং এতে গুড়ের উপাদান থাকে। আখমাড়াই মেশিনে আখের রস বের করে জ্বালঘরে জাল করার পর মাটিতে গর্ত করে তৈরি চুলায় কড়াই বসিয়ে রস জ্বাল দেওয়া হয়। রস পূর্ণ জ্বাল হওয়ার পর কড়াইসহ চুলা থেকে নামিয়ে কাঠের ডাং বা কাঠি আঞ্চলিক কথ্য ভাষায় ‘ডোভ’ দিয়ে বিরামহীন ঘুটতে থাকে, যতক্ষণ না শুকনো ধূলার মত আকার ধারন করে। আখের গুণগত মান খারাপ হলে ধুলার মতো না হয়ে গুটি গুটি আকার ধারণ করে। ধুলার মতো বা গুটির মতো যা-ই হোক, স্থানীয় ভাষায় এটাই লাল চিনি। চিনি তৈরি করার জন্য যে অস্থায়ী গৃহ নির্মাণ করা হয়, তাকে বলা হয় জ্বালঘর। দেখতে ধূসর খয়েরি হলেও সাদা চিনির বিপরীতেই হয়তো লাল চিনি নামকরণ।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর মোহামদ জানায়, আখের জাত উন্নত হলে চিনির উৎপাদন আরও বেড়ে যাবে। তাই আখের নতুন জাত সরবরাহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে কৃষক আরওে লাভবান হবে। আখচাষিদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হলে কৃষকরা আরও বেশি উদ্বুদ্ধ হবেন। চলতি মৌসুমে ৬৫০ হেক্টর জমিতে আখ আবাদ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় গত ১১ জুলাই ফুলবাড়ীয়ার লাল চিনিকে জিআই পণ্যের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। সেই ধারাবহিকতায় লাল চিনি জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে যা বিশাল গর্বের এবং এই চিনির সুখ্যাতি দেশ দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়বে।##

মতিউল আলম

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *