ময়মনসিংহের প্রত্যন্ত গ্রামের এক সফল পিতা-মাতার গল্পঃ প্রশংসা ভাসছেন এলাকায়

ময়মনসিংহের প্রত্যন্ত গ্রামের এক সফল পিতা-মাতার গল্পঃ প্রশংসা ভাসছেন এলাকায়

BMTV Desk No Comments

মতিউল আলম, , বিএমটিভি নিউজঃ
সফল পিতামাতার গল্প শুনতে ভালই লাগে। তা যদি হয় একজন নিন্ম আয়ের পরিবার। মোঃ মমরোজ আলী (৭২) ও মোছাঃ আনোয়ারা বেগম ( ৬৫) দম্পতির চার মেধাবী ছেলে। চার সন্তানকে লেখাপড়া করিয়ে অনার্স ও মাস্টার্স পাস করিয়েছেন। এখানেই শেষ নয় চার জনই চাকুরিজীবি। ২ ছেলে সরকারি চাকুরিজীবি একজন ব্যাংকের অফিসার ও একজন ইউরোপে চাকুরিরত। তাদেরই পিতা মোঃ মমরোজ আলী একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশের কনস্টেবল। মমরোজ আলী ৪ ছেলেকে উচ্চ শিক্ষিত করে চাকুরি দেয়ায় এলাকায় প্রশংসায় ভাসছেন। এলাকার মানুষ সবাই তাকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করেন। এলাকায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
মাতা মোছাঃ আনোয়ারা বেগম একজন আদর্শ গৃহিনী। পুলিশের চাকুরির সুবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকতে হয়েছে। বাবা হিসেবে মাস শেষে নিজের খরচ বাদে সামান্য বেতনের টাকাটা বাড়িতে পাঠিয়েছেন। সেই টাকা দিয়ে মা হিসেবে করে চার ছেলের লেখাপড়া খরচসহ যাবতীয় সংসারের খরচ সুপরিকল্পিত করেছেন।
ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানার কোনাপাড়া, সরতাজ বাহেরা গ্রামের মৃত হাছেন আলী ব্যাপারী ছেলে মোঃ মমরোজ আলী (৭২), তিনি ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। দক্ষতা, সফলতা, সুনাম ও কৃতিত্বের সাথে চাকুরী করে ২০১২ সালে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী হতে স্বাভাবিকভাবে অবসর গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি ও তাঁর স্ত্রী মোছাঃ আনোয়ারা বেগম ( ৬৫) কে নিয়ে গ্রামের বাড়ীতে বসবাস করছেন। ছেলেরা দেশ-বিদেশে কর্মরত রয়েছেন পরিবার নিয়ে। ছেলেরা চার জনই বিবাহিত। বছরে দুই ঈদে ছেলেরা স্ত্রী, সন্তান নিয়ে বাড়িতে আসেন। যেন অন্যরকম উৎসবে পরিণত হয় গ্রামের বাড়ি।
চাকুরী জীবনে মোঃ মমরোজ আলী অনেক চড়াই, উতরাই পার করে চার সন্তানকে লেখাপড়া করিয়েছেন দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে।
মোঃ মমরোজ আলী ও মোছাঃ আনোয়ারা বেগম চার ছেলে সন্তানের জনক-জননী ও সফল পিতা-মাতা। বর্তমানে চার ছেলে সন্তানের মধ্যে প্রত্যেকেই দেশ ও দেশের বাইরে চাকুরী করে আসছেন এবং দেশের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
বড় ছেলে মোঃ আনোয়ারুল হক মঞ্জু নেত্রকোনা সরকারি কলেজ, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স পাস করে , সিটিজেনস্ ব্যাংকে, প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকার উপজেলার মাস্টারবাড়ি শাখায় কর্মরত আছেন।
দ্বিতীয় ছেলে আলমগীর হোসেন রানা, আনন্দ মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে রসায়ন বিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
তৃতীয় ছেলে আলীমূল রেজা রনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিষয়ে, অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য বর্তমানে ক্রোয়েশিয়ায় (ইউরোপে) অবস্থান করছেন। পাশাপাশি একটি সুনাম ধন্য কোম্পানিতে চাকুরিও করছেন।
চতুর্থ ছেলে আজমাল হোসেন রবিন, আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে, অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে বর্তমানে ঢাকায় বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর পুলিশ হেড কোয়াটার্স কর্মরত আছেন।
অবসরপ্রাপ্ত পুলিশের কনস্টেবল মমরোজ আলী বলেন, বাবা হিসেবে আমি গর্ববোধ করি। সামান্য বেতনে সরকারী চাকুরি করে ৪টি ছেলে উচ্চ শিক্ষিত করার পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থান করতে পেরেছি । এর চেয়ে আনন্দের আর কি হতে পারে। আমরা স্বামী-স্ত্রী অসুস্থ হলে যে যেখানে থাকুন দৌড়ে গ্রামের বাড়ি চলে আসে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া চিকিৎসা করানো কোন ত্রুটি করে না। আমি তাদের প্রতি সন্তুষ্ট। তারা যেন স্ত্রী সন্তান নিয়ে সুস্থ থাকে শান্তিতে থাকে। চার সন্তানকে কিভাবে সামান্য টাকা বেতনে চাকুরি করে শিক্ষিত করলেন ? এর জন্য আমাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। এর পিছনে আমার স্ত্রী চার ছেলের মায়ের অনেক অবদান রয়েছে। সেই সাথে পুলিশের অনেক উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের আন্তরিক সহযোগিতা রয়েছে ।
সফল মাতা আনোয়ারা বেগম (৬৫) বলেন, সন্তানদের মানুষ করতে আমার অনেক পরিশ্রম ও কষ্ট করতে হয়েছে। পরিশ্রম ও কষ্টের ফসল হিসেবে আল্লাহ আমার চার সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছেন।
বড় ছেলে আনোয়ারুল হক মঞ্জু বলেন, ছোট তিন ভাইকে শিক্ষিত করতে গিয়ে বাবার পাশাপাশি আমি ও আমার স্ত্রীকেও সংসারের হাল ধরতে হয়েছে। বাবার পরে প্রথম চাকুরীজীবী আমি ও আমার স্ত্রী।
স্থানীয় পাশের গ্রাম মধুর বাহেরা গ্রামের প্রবীণ অবসরপ্রাপ্ত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবদুল হাই বলেন, মোমরোজ আলী আসলে একজন ভাগ্যবান ব্যক্তি। সামান্য বেতন চাকুরী করে ৪ টি ছেলে সর্বোচ্চ শিক্ষিত করেছেন। এবং ৪ জনেই ভাল চাকুরি করেন। এটা এলাকার জন্য গর্ব করারর মতো। উনার এবং স্ত্রীর ইচ্ছা শক্তি প্রবল ছিল বলেই অসাধ্য কাজ সাধ্য করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের সকলের জন্য দোয়া করি। তাদের দেখে আমরা সকলেই শিক্ষা নিতে পারে। টাকা শুধু টাকা হলে সম্ভব নয় । তিনি প্রমাণ করেছেন আল্লাহর দয়া থাকলে ইচ্ছা শক্তি যথেস্ট।

মতিউল আলম

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *