অনলাইনে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা চিরতরে নির্মূল হবে-.উদ্ভাবক আশরাফুল ইসলাম অপু 

অনলাইনে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা চিরতরে নির্মূল হবে-.উদ্ভাবক আশরাফুল ইসলাম অপু 

BMTV Desk No Comments

স্টাফ রিপোর্টার, বিএমটিভি নিউজঃ

ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলা এবং পরবর্তী সময়ে ময়মনসিংহ জেলায় পুরস্কার পেল পাবলিক পরীক্ষার জন্য অনলাইনে করা প্রশ্নপত্রের আইডিয়াটি যে আইডিয়ার মূল থিম ফাঁস হওয়া থেকে প্রশ্নপত্র রক্ষা করা । কী আছে এই উদ্ভাবনীতে- ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড অভিজ্ঞ- দক্ষ শিক্ষকমণ্ডলীর কাছ থেকে বছরের শুরুতে সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে মর্ডারেশন বোর্ডের কাছে জমা দিলে মডারেশন বোর্ড কমপক্ষে ১০ (দশ) সেট প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করে রাখবে । পুরো সিলেবাসের ওপর তৈরি করে ১০ (দশ) সেট প্রশ্নপত্র পরীক্ষার্থীদের জন্য বছরের নির্দিষ্ট সময়ে উন্মুক্ত করার প্রস্তাব করা হয় এই আইডিয়ায় । সংশ্লিষ্ট বোর্ডের চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং নির্ধারণের জন্য একটি কমিটি গঠন করার কথা বলা হয়েছে এই উদ্ভাবনী আইডিয়ায়। এ কমিটি ১০ (দশ) সেট প্রশ্নপত্র থেকে যাচাই-বাছাই করে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক সেট প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে এই নতুন আইডিয়ায় । জেলা-উপজেলায় স্থাপিত পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রশ্নপত্রের সব সেট আগে থেকেই সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে এই আইডিয়ায়।

পরীক্ষার দিন পরীক্ষা শুরুর ২ ঘন্টা আগে লটারিতে এক সেট বোর্ড কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে সব কেন্দ্রে ই-মেইলে পাঠাবে। নেট চালু না থাকলে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে ম্যাসেজে পাঠানোর ব্যবস্থা করার জন্য এ আইডিয়ায় প্রস্তাব করা হয়েছে। জেলা-উপজেলা পর্যায়ের পরীক্ষা কমিটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার উপস্থিতিতে কেন্দ্র সচিব/ভারপাপ্ত কর্মকর্তা কেন্দ্রে স্থাপিত ফটোস্ট্যাস্ট থেকে ফটোকপি করে পরীক্ষা শুরুর সময় প্রশ্নপত্র পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন । পরীক্ষা শুরুর আগ পর্যন্ত রুমের কেউ বের না হওয়া এবং কোনো ডিভাইস/মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখা থেকে বিরত থাকার কথা প্রস্তাব করা হয়েছে এই নতুন আইডিয়ায়। কেন্দ্রে একাধিক ফটোকপি মেশিন এবং জেনারেটর প্রস্তুত রাখার জন্য উদ্ভাবনী আইডিয়ায় প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।

এ পদ্ধতি আরও আধুনিকায়নে পরীক্ষা শুরুর সময় শ্রেণিকক্ষে স্থাপিত প্রজেক্টরের মাধ্যমে গৌরীপুর উপজেলার লামাপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণির একটি বিষয়ের পরীক্ষা নেয়াসহ ২০২৫ সনে ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় ধীতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এই পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র প্রণযন করে ৬ষ্ঠ শ্রেনির একটি বিষয়ের পরীক্ষা নিয়ে সুফল পাওয়া গিয়েছে। তা ছাড়া সরকার অধিকাংশ মাধ্যমিক/উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এরই মধ্যে ডিজিটাল ল্যাবসহ প্রজেক্টরের ব্যবস্থা করেছে, যা আধুনিক পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে পাবলিক পরীক্ষা নেওয়ার পথ সুগম করবে বলে জানান উদ্ভাবক । বাংলদেশ সরকারি মুদ্রনালয় (বিজি প্রেস) থেকে প্রশ্নপত্র ছাপিয়ে সংরক্ষণ, পরবর্তীতে জেলা ট্রেজারীতে প্রেরণ এবং জেলা থেকে উপজেলা পর্যায়ে থানাতে প্রশ্নপত্র  সর্টিং, সংরক্ষণ এর জন্য সময়, অর্থ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কেন্দ্র সচিব/ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, প্রশ্নপত্রের ট্রাংক গালা করার জন্য কর্মচারী এই কাজে সহযোগিতা করেন- এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় প্রশ্নপত্র রক্ষাণাবেক্ষন করা দূরুহ, ফাঁস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং কোথাও কোথাও অব্যবস্থাপনার খবর পত্রিকায়/ মিডিয়ায়/সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হতে দেখা যাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে একটি কেন্দ্রের জন্য সকল কেন্দ্রের উপর এর প্রভাব পড়ে এমনকি সকল কেন্দ্রের পরীক্ষা স্থগিত করার বিষঢয়টি সামনে এসে যায়। অথচ নতুন আইডিয়ায়  প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণ করলে অর্থ ও সময় বেঁচে যাবে এবং প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা চিরতরে নির্মূল হবে বলে জানান এই উদ্ভাবক।

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *