স্টাফ রিপোর্টার, বিএমটিভি নিউজঃ
আশরাফুলকে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে টাকা আদায় করার টার্গেট ছিলো জরেজুল ও প্রেমিকা কোহিনুর (৩৩)। এই মামলার প্রধান আসামি জরেজুলকে গ্রেপ্তারের পর শামীমাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
রংপুরের কাঁচামাল ব্যবসায়ী আশরাফুল হককে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এবং অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে টাকা আদায় করার টার্গেট ছিলো জরেজুল ইসলাম ও প্রেমিকা শামীমা আকতার কোহিনুরের (৩৩)। এই মামলার প্রধান আসামি জরেজুলকে গ্রেপ্তারের পর শামীমাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। শামীমা এই হত্যার পরিকল্পনা, ব্ল্যাকমেইলিং এবং লাশ গুমের পুরো সহযোগিতায় জড়িত ছিলেন। শনিবার সকালে রাজধানীর কাওরান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফিন এসব তথ্য জানান। এর আগে গতরাতে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শামীমাকে।গ্রেপ্তারকৃত শামীমা আক্তার ওরফে কোহিনুরের দেয়া তথ্য ও মোবাইল বিশ্লেষণে র্যাব জানায়, মামলার প্রধান আসামি প্রেমিক জরেজুলের পরামর্শে ব্লাকমেইল করে ১০ লাখ টাকা অর্থ আদায়ের উদ্দেশে হানিট্রাপে ফেলা হয় ভুক্তভোগী আশরাফুলকে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজধানীর শনিরআখড়ার একটি বাসায় আনা হয় আশরাফুলকে, সেখানে তাকে অচেতন করে অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ করা হয়।
র্যাব আরো জানায়, এক পর্যায়ে মামলার প্রধান আসামি জরেজ ভুক্তভোগী আশরাফুলকে হাতুরি দিয়ে আঘাত করে মুখে কসটেপ দিয়ে আটকায়। শ্বাস নিতে না পারায় ভুক্তভোগীর মৃত্যু হয়।
পরবর্তীতে বাজার থেকে কেনা ড্রামে লাশ ২৬ টুকরো করে সিএনজি করে হাইকোর্ট মাজারগেটে ফেলে রাখে জরেজ ও শামীমা।
আওয়ামী লীগের ঘোষিত লকডাউনে নাশকতা এড়াতে রাজধানীতে ১৩ই নভেম্বর কড়া নিরাপত্তা ছিলো।
এত নিরাপত্তা ও চেকপোস্ট এড়িয়ে লাশ শনিরআখড়া থেকে হাইকোর্ট নিয়ে নেয়ায় নিরাপত্তার ঘাটতি প্রশ্নে র্যাব আইনশৃঙ্খলার ঘাটতি নেই উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের দেশের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সবচেয়ে খুশির বিষয় দ্রুততম সময়ে আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় ঈদগাহ মাঠের গেটের কাছে নীল রঙের দুটি ড্রামে আশরাফুলের ২৬ টুকরা লাশ পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিক পরিচয় শনাক্ত না হলেও পরে আঙুলের ছাপ নিয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ।