ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রেমিকের আশ্বাসে পালিয়ে বিয়ে করতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক তরুণী। প্রতারক প্রেমিক বিয়ের নাটক সাজিয়ে নির্জন চরাঞ্চলে আটকে রেখে নিজে ও তার ৩–৪ জন সহযোগী মিলে দুই দিন ধরে পালাক্রমে পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে ওই তরুণীর ওপর। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের চরমাদাখালী গ্রামের গজিয়ার চর এলাকায়।
ভুক্তভোগী তরুণীর দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, বালিপাড়া ইউনিয়নের চরমাদাখালী গ্রামের বাদশা নামে এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। পরে মেসেঞ্জারে কথোপকথনের মাধ্যমে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় ৯ মাসের এই সম্পর্কের মধ্যে ২–৩ বার তারা ত্রিশাল বাজারে দেখা করেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বিয়ের বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরিবারের সম্মতি পাওয়া যাবে না এই আশঙ্কায় তারা পালিয়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন।
পালিয়ে বিয়ের উদ্দেশ্যে গত মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) তরুণী তার পালক মা-বাবার বাড়ি থেকে বিয়ের খরচের জন্য সঙ্গে থাকা ৯ হাজার টাকা নিয়ে বের হন। প্রেমিক বাদশার দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী সন্ধ্যার আগেই তিনি বালিপাড়া ইউনিয়নের ধলা বাজারে পৌঁছান। ধলা বাজারের পূর্ব পাশে ব্রহ্মপুত্র নদীর ওপারে চরমাদাখালী গ্রামে অপেক্ষা করছিলেন প্রেমিক বাদশা। ফোনে যোগাযোগ করতে করতে নদী পার হয়ে তিনি সেখানে পৌঁছান। এরই মধ্যে দিনের আলো ফুরিয়ে অন্ধকার নেমে আসে।
এরপর বাদশা তাকে নিয়ে গ্রামের ভেতর দিয়ে হাঁটতে শুরু করে। সরল বিশ্বাসে অচেনা ও নির্জন পথে হাঁটতে হাঁটতে তরুণী পৌঁছান চরাঞ্চলের গজিয়ার চর এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল বাদশার বন্ধু আহাদ ও ফরিদসহ আরও কয়েকজন। এরপরই তারা তরুণীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মোবাইল ফোন ও সঙ্গে আনা ৯ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। চিৎকার করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
এরপর শুরু হয় পাশবিক নির্যাতন। প্রথম রাতসহ পরদিন বুধবার দিনভর ও রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয় ওই তরুণীকে। দীর্ঘ দুই দিন ধরে চলে এই পৈশাচিক বর্বরতা। বৃহস্পতিবার সকালে নানা হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষকরা তাকে ছেড়ে দেয়।
ঘটনার পর লজ্জা ও ভয় থেকে পালক মা-বাবার বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সাহস পাননি ভুক্তভোগী। গুরুতর অসুস্থ ও শারীরিকভাবে বিধ্বস্ত অবস্থায় তিনি এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং সেখানে সবকিছু খুলে বলেন। পরে ওই আত্মীয় স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মীকে বিষয়টি জানান।
ইকবাল নামে এক স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী প্রথমে ভুক্তভোগীকে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ব্যথা নিরাময়সহ প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে রেফার্ড করা হয়।
ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইমার্জেন্সি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. রাশেদ আহমেদ জানান, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট মনিরা ভুক্তভোগীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে লালচে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন। গুরুতর শারীরিক ব্যথা অনুভব করায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ সার্ভিসে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা হাসপাতালে ছুটে যান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর ভুক্তভোগী তরুণী ত্রিশাল থানায় উপস্থিত হয়ে ধর্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
ত্রিশাল থানার তদন্ত কর্মকর্তা ওসি গোলাম মোস্তফা রুবেল জানান, ভুক্তভোগী অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।