স্টাফ রিপোর্টার, বিএমটিভি নিউজঃ
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন ,যারা বলেন “আজকের বাংলাদেশ পেতে ৪৭ থেকে ২৪ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে” তারা জাতির আত্মপরিচয়ের প্রতি আঘাত করছেন । এই বক্তব্য শুধু ইতিহাস বিকৃতি নয়, এটি গভীরভাবে উদ্বেগজনক ও এই বক্তব্যের অন্তর্নিহিত অর্থে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে কার্যত অস্বীকার করা হয়েছে।
তিনি আজ ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত শহীদ জিয়া ফুটবল টুর্নামেন্টে ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন ।
জাতীয়তাবাদী ছাত্র দল গামারীতলা ইউনিয়ন ও কলসিন্দুর কলেজ শাখা আয়োজিত এই ফুটবল টুর্নামেন্টে ৭ টি টিম অংশ গ্রহণ করে ।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ক্রীড়া উন্নয়ন মানেই শুধু খেলাধুলা নয়—এর মাধ্যমে শারীরিক সুস্থতা, মানসিক দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের গুণ তৈরি হয়। এজন্য সমাজ ও রাষ্ট্রকে নিয়মিত খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেছেন বিএনপি স্কুলের পাঠক্রমে ক্রীড়া ও আর্ট-কালচারকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করবে । সময় তিনি ক্রীড়া উন্নয়ন, নিয়মিত খেলাধুলা এবং কলসিন্দুরের নারী ফুটবলারদের কৃতিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
ফাইনাল খেলা শেষে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী ও সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, কলসিন্দুর আজ শুধু একটি গ্রামের নাম নয়, এটি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের একটি গর্বের প্রতীক। এখানকার মেয়েরা প্রতিকূলতা জয় করে জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে, যা পুরো জাতির জন্য অনুপ্রেরণা।
এমরান সালেহ প্রিন্স কলসিন্দুরে ছেলে -মেয়েদের জন্য একটি স্থায়ী ফুটবল প্রশিক্ষণ একাডেমি , কলসিন্দুর স্কুল এন্ড কলেজের মেয়েদের জন্য প্রশিক্ষণকালীন আপ্যায়ন ভাতা , স্হায়ী প্রশিক্ষক নিয়োগ , স্টেডিয়ামে নিয়মিত খেলার আয়োজন বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে বলে তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন ।
তিনি আরও বলেন, সঠিক পরিকল্পনা, প্রশিক্ষক ও দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে গ্রাম থেকেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি করা সম্ভব। বিএনপি ক্রীড়াকে একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্বাস করে।
অনুষ্ঠান শেষে ফাইনাল খেলায় অংশগ্রহণকারী দুই দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি। এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মফিজ উদ্দিন , বর্তমান আহ্বায়ক অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম কাজল , সদস্য সচিব আনিসুর রহমান মনিক , ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান , সদস্য সচিব আব্দুস শহীদ , সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াহেদ তালুকদার , ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন , যুব দল নেতা আবুল কাশেম ডলার, ফারুক হোসাইন , উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক ইমরান হোসাইন , জেলা ছাএদলের আহ্বায়ক নুরুজ্জামান সোহেল , সদস্য সচিন সুজা উদ্দিন সুজা , উপজেলা ছাত্র দলের আহবায়ক জালাল উদ্দিন , সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম পলাশসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, ক্রীড়া সংগঠক, শিক্ষক, অভিভাবক ও বিপুল সংখ্যক দর্শক উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন একটি জাতির নতুন করে জেগে ওঠার মুহূর্ত
দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নে গারো পল্লী গোসাইপুর গ্রামে বড় দিনের আয়োজনে অংশগ্রহণ করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন , “ তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কেবল একজন নেতার দেশে ফেরা নয়—এটি একটি জাতির নতুন করে জেগে ওঠার মুহূর্ত। রাজসিক অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে, তিনি আজ আর শুধু একটি রাজনৈতিক নেতৃত্ব নন, তিনি জনগণের আশা-ভরসার নাম। লাখো মানুষের উপস্থিতি ছিল স্পষ্ট বার্তা—এই দেশ তারেক রহমানকে নেতৃত্বে দেখতে চায়।
বড় দিন উৎসবে তিনি বলেন , দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে জনগণ আজ নিরাপত্তাহীন, দিশেহারা। মানুষের জান-মাল নিরাপদ নয়, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। এই সংকটের সময়ে জনগণ একজন অভিভাবক খুঁজছে—যিনি নিরাপত্তা দেবেন, সম্মান দেবেন, উন্নত ও মানবিক জীবন নিশ্চিত করবেন।
সেই নামটাই আজ মানুষের মুখে মুখে—তারেক রহমান।আজ জনগণ প্রস্তুত নতুন সংগ্রামের জন্য।
বড় দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রিন্স বলেন , বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে সব ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে। এই ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করতে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।বিএনপি সম্প্রীতি , সৌহার্দের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ।
গারো পাহাড় সংলগ্ন সীমান্তবর্তী দুর্গম গ্রাম গোসাইপুর গ্রামে পৌছালে এমরান সালেহ প্রিন্সকে গ্রামবাসী গারো নারী পুরুষ, যুবক , শিশু ফুল ছিটিয়ে , গারো ভাষায় স্বাগত গান গেয়ে অভ্যর্থনা জানান এবং মিছিল সহকারে তাঁকে অনুষ্ঠানস্থল গ্রামের গীর্জা প্রাঙ্গণে নিয়ে আসেন ।
অনুষ্ঠানে গারো খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়
করেন তিনি । এ সময় তারা বড় দিনের আনন্দ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
আয়োজনস্থলে উপস্থিত হয়ে নেতৃবৃন্দ গারো খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষদের ব্যক্তিগত খোঁজখবর নেন এবং তাদের সুখ-দুঃখের কথা শোনেন। পাশাপাশি স্থানীয়দের জীবনযাপন, শিক্ষা ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।
এসময় তারা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন । প্রিন্সসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে গ্রামবাসীর মধ্যহ্নভোজে আপ্যায়িত করেন ।
অনুষ্ঠানে সেন্ট পল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সাবেক প্রিন্সিপাল মিস্টার কেনুস ম্রং , জাতীয়তাবাদ ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠী দল ধোবাউড়া উপজেলা শাখার সভাপতি মিসেস সবিতা থিগিদি, ধোবাউড়া উপজেলা ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন এর চেয়ারম্যান শমুয়েল চিরান জাতীয়তাবাদী মহিলা দল ধোবাউড়া উপজেলার সদস্য সপিনা ম্রং এবং উপজেলা বিএনপির আহব্বায়ক অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম কাজল , সদস্য সচিব আনিসুর রহমান মনিক , ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবীর ,সাবেক চেয়ারম্যান গাজীউর রহমান ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং গারো খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ , শিশু , কিশোর উপস্থিত ছিলেন। বড় দিনের আনন্দঘন পরিবেশে এ সময় সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উৎসবমুখর আবহ বিরাজ করে।