ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ঃ
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ গরু চোর চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পৃথক অভিযানে চুরি হওয়া বিভিন্ন জাতের মোট ৬টি গরু উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ত্রিশাল থানা সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ গভীর রাতে ত্রিশাল পৌর এলাকার একাধিক গোয়ালঘর থেকে সংঘবদ্ধ একটি চোরচক্র গরু চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগীরা ত্রিশাল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ত্রিশাল থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে পুলিশ গরু চোর চক্রের ৬ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পরে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থান থেকে প্রথমে ২টি এবং পরবর্তীতে আরও ৪টি চুরি হওয়া গরু উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহসহ একাধিক জেলায় গরু চুরির একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো ময়মনসিংহ সদরের মাসকান্দা এলাকার আব্দুল জব্বারের ছেলে মো. মাসুদ মিয়া (৩০), ত্রিশাল উপজেলার চাউলাদী গ্রামের মৃত তৈয়ব উদ্দিনের ছেলে সজিব মিয়া (৩২), আখরাইল গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে কামাল (৩৫), রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলার মৃত আবু বক্করের ছেলে জুয়েল (৩৮), জামালপুর সদর উপজেলার মৃত কালা চানের ছেলে মুনসুর আলী (৪০) এবং গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার সোহরাব খানের ছেলে স্বাধীন খান (২৫)।
এ বিষয়ে ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন বলেন,
ত্রিশালে গরু চুরির ঘটনা রোধে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সংঘবদ্ধ এই চোরচক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরি করে আসছিল। গোপন তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় আমরা তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাহিদ বলেন,
“গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা গরু চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চুরি হওয়া গরুগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে, যাতে চোরচক্রের অন্যান্য সদস্য, গরু চুরির রুট ও সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় খামারি ও সাধারণ মানুষ। তারা গরু চোর চক্রের সদস্যদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।